২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিলের প্রাথমিক রণকৌশল চূড়ান্ত করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী গত ১১ মে তিনি ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড জমা দিয়েছেন যেখানে বড় চমক হিসেবে ফিরেছেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড নেইমার। তবে এই তালিকার সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে উদীয়মান তরুণ ফরোয়ার্ড এস্তেভাওয়ের বাদ পড়া। ডান উরুর পেশির গুরুতর চোটের কারণে ১৯ বছর বয়সী এই প্রতিভাকে ছাড়াই বিশ্বকাপের পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে সেলেসাওদের। ইএসপিএন তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে চিকিৎসার জন্য ক্লাব পালমেইরাসে যাওয়ার সময় তরুণ এই ফুটবলারকে বেশ বিমর্ষ দেখাচ্ছিল।
এস্তেভাওয়ের চোটের শুরুটা হয়েছিল গত ১৮ এপ্রিল প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে। চেলসির হয়ে খেলা এই ফরোয়ার্ডের ফিটনেস নিয়ে শুরু থেকেই দুশ্চিন্তা ছিল ব্রাজিল ও চেলসির চিকিৎসক দলের। প্রাথমিকভাবে বিশ্বকাপের আগে সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তার শতভাগ ফিটনেস নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আনচেলত্তি ব্যক্তিগতভাবে এই তরুণ তুর্কির বড় ভক্ত হওয়া সত্ত্বেও কেবল অনিশ্চয়তার কারণে তাকে স্কোয়াডের বাইরে রাখতে বাধ্য হয়েছেন। গত মৌসুমে চেলসির হয়ে ৩৬ ম্যাচে ৮ গোল করা এস্তেভাওকে ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ সুপারস্টার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
অন্যদিকে ৩৪ বছর বয়সী নেইমারের জন্য এই বিশ্বকাপ হতে পারে আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ। ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও আনচেলত্তির অধীনে এর আগে কোনো স্কোয়াডে জায়গা পাননি আল হিলালের এই তারকা। নেইমারের অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রেখে তাকে ৫৫ সদস্যের তালিকায় রাখা হয়েছে যা ভক্তদের মনে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। নেইমার দলে ফিরলেও দুশ্চিন্তা রয়ে গেছে রিয়াল মাদ্রিদের দুই তারকা এদের মিলিতাও ও রদ্রিগোকে নিয়ে। গুরুতর চোটের কারণে এই দুজনেই এখন বিশ্বকাপ মিস করার প্রবল ঝুঁকিতে রয়েছেন যা ব্রাজিলের রক্ষণ ও আক্রমণভাগে ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
ফিফার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দলকে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে তাদের প্রাথমিক তালিকা জমা দিতে হয়। যদিও এই তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না কিন্তু এখান থেকেই চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের স্কোয়াড নির্বাচন করা হবে। কার্লো আনচেলত্তি তার পরিকল্পনায় অভিজ্ঞ ও তরুণের সমন্বয় চাইলেও চোটের তালিকা দীর্ঘ হওয়ায় তাকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাইট উইংয়ে এস্তেভাওয়ের অভাব পূরণ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চেলসি ও পালমেইরাসের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে জানা গেছে যে এস্তেভাও নিজেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন কারণ এটি ছিল তার প্রথম বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন।
ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন বর্তমানে আহত খেলোয়াড়দের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজর রাখছে। রদ্রিগো ও মিলিতাওকে ছাড়াই যদি বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে হয় তবে আনচেলত্তিকে ঘরোয়া লিগ ও ইউরোপের অন্যান্য লিগে খেলা বিকল্প ফুটবলারদের ওপর নির্ভর করতে হবে। নেইমারের উপস্থিতি ড্রেসিংরুমে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও মাঠের লড়াইয়ে তার ম্যাচ ফিটনেস কতটুকু থাকবে তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সব মিলিয়ে চোট আর প্রত্যাবর্তনের মিশেলে ব্রাজিলের ২০২৬ বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু থেকেই নাটকীয়তায় ভরপুর হয়ে উঠেছে। চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দলে কে কে টিকবেন তা দেখার জন্য ফুটবল বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
