বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার চূড়ান্ত রিপোর্ট ও এয়ার ইন্ডিয়া সংকট

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৩, ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম

আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার চূড়ান্ত রিপোর্ট ও এয়ার ইন্ডিয়া সংকট

ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (এএআইবি) আগামী এক মাসের মধ্যে আহমেদাবাদে বিধ্বস্ত এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১৭১ ফ্লাইটের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করতে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের ১২ জুন লন্ডনগামী এই বিমানটি আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আছড়ে পড়েছিল। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২৬০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এই রিপোর্টের প্রতীক্ষায় যখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন এয়ার ইন্ডিয়ার ভেতরে নানা সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। নেতৃত্বহীনতা, বিশাল অঙ্কের আর্থিক লোকসান এবং নিরাপত্তার ঘাটতি সংস্থাটির টিকে থাকার লড়াইকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

গত মাসে এয়ার ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাম্পবেল উইলসন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন। প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২৬ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে এয়ারলাইন্সটির লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলারে। টাটা গ্রুপ ২০২২ সালে সরকারের কাছ থেকে এই রুগ্ণ বিমান সংস্থাটির মালিকানা নেওয়ার পর বর্তমানে এটি তাদের গ্রুপের সবচেয়ে বড় লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। গত সপ্তাহে টাটা বোর্ডের বৈঠকে ব্যয় কমানোর জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আলোচনা হয়েছে এবং কর্মীদের সামনে ‘কঠিন সময়’ আসছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এরই মধ্যে মুম্বাইয়ে টাটার সদর দপ্তরে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, এয়ার ইন্ডিয়ায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ২৫.১ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে।

অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, উইলসনের প্রস্থান এমন এক সময়ে ঘটল যখন এয়ার ইন্ডিয়াকে কঠিন সংকট থেকে উত্তরণের জন্য একজন দক্ষ চালকের প্রয়োজন ছিল। এয়ার ইন্ডিয়ার সাবেক নির্বাহী পরিচালক জিতেন্দ্র ভার্গব বিবিসিকে জানিয়েছেন যে, সংস্থাটির জন্য এখন একটি স্পষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন ছিল। টাটা গ্রুপ যখন এই কোম্পানিটি অধিগ্রহণ করেছিল, তখন তারা এর উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সমস্যাগুলোকে হয়তো কম মূল্যায়ন করেছিল। তাদের পাঁচ বছরের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং বর্তমান বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের গ্যাপ বা ফাঁক তৈরি হয়েছে।

সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ সমস্যার পাশাপাশি গত এক বছরে বেশ কিছু বিব্রতকর অপারেশনাল ব্যর্থতা এবং নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। গত মার্চে দিল্লি থেকে ভ্যাঙ্কুভারগামী একটি ফ্লাইটকে আট ঘণ্টা ওড়ার পর পুনরায় দিল্লিতে ফিরে আসতে হয়েছিল কারণ কানাডার আকাশসীমায় ঢোকার কোনো রেগুলেটরি অনুমোদন বিমানটির ছিল না। বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং প্রক্রিয়ার বড় ধরনের ত্রুটি হিসেবে দেখছেন। এছাড়া ভারতের এভিয়েশন রেগুলেটর গত বছর এয়ার ইন্ডিয়ার বার্ষিক অডিটে ৫১টি নিরাপত্তা লঙ্ঘন খুঁজে পেয়েছিল, যার মধ্যে সাতটি ছিল সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা ঝুঁকি।

বাইরের বৈরী পরিবেশও এয়ার ইন্ডিয়ার পারফরম্যান্সকে বাধাগ্রস্ত করছে। আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি সংস্থাটির খরচ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। আহমেদাবাদ ট্র্যাজেডির চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের পর যদি যান্ত্রিক ত্রুটি বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে টাটা গ্রুপের জন্য এয়ার ইন্ডিয়ার ব্র্যান্ড ইমেজ ধরে রাখা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়বে। সব মিলিয়ে ভারতের জাতীয় পতাকাবাহী এই বিমান সংস্থাটি এখন এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে, যা থেকে উত্তরণের পথ খুব একটা সহজ দেখা যাচ্ছে না।

banner
Link copied!