বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

স্মার্ট চশমার জনপ্রিয়তায় বাড়ছে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৩, ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম

স্মার্ট চশমার জনপ্রিয়তায় বাড়ছে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি

স্মার্ট চশমার নতুন ঢেউ বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিব্র প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি করলেও এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি। বিশেষ করে মেটার তৈরি রে-ব্যান স্মার্ট চশমা এখন বাজার মাত করলেও এই ডিভাইসটি ব্যবহার করে মানুষের অজান্তে তাদের ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। রয়টার্স ও বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রযুক্তির এই নতুন সংস্করণটি যেমন জনপ্রিয় হচ্ছে, তেমনি এটি ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়ে উঠছে বড় ধরনের প্রশ্ন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিপণিবিতান বা সমুদ্র সৈকতে নারীদের অজান্তে ভিডিও ধারণ করে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

স্মার্ট চশমার এই আধুনিক সংস্করণে ক্যামেরার অবস্থান এতটাই সূক্ষ্ম যে সাধারণ মানুষের পক্ষে এটি শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। মেটা বর্তমানে এই বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ দখল করে আছে এবং ইতিমধ্যে তারা ৭০ লাখেরও বেশি চশমা বিক্রি করেছে। মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এই সাফল্যকে ইতিহাসের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ইলেকট্রনিক্স পণ্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে এই সাফল্যের উল্টো পিঠে রয়েছে অন্ধকারের গল্প। অনেক নারী অভিযোগ করেছেন যে, রাস্তায় বা দোকানে থাকা অবস্থায় পুরুষরা এই চশমা পরে তাদের সাথে কথা বলছে এবং গোপনে সেই আলাপচারিতা ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছে। এসব ভিডিওর নিচে অনেক সময় আপত্তিকর মন্তব্যও করা হচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য বিব্রতকর এবং অবমাননাকর।

এদিকে মেটার স্মার্ট চশমা নিয়ে বিতর্কের ঝড় কেবল ভিডিও ধারণেই সীমাবদ্ধ নয়। কেনিয়ায় কর্মরত কিছু তথ্য-যাচাইকারী অভিযোগ করেছেন যে, এআই প্রশিক্ষণের জন্য তাদের এই চশমার মাধ্যমে ধারণকৃত যৌন এবং ব্যক্তিগত ভিডিওগুলো দেখতে বাধ্য করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মেটার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, ব্যবহারকারীরা জানতেনই না তাদের চশমা দিয়ে গোপনে এমন সব ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। অন্য মামলায় অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, ব্যবহারকারীদের না জানিয়েই তাদের ব্যক্তিগত ভিডিওগুলো তৃতীয় পক্ষের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। মেটা অবশ্য দাবি করেছে যে, তারা তাদের শর্তাবলীতে এ ধরনের পর্যালোচনার সম্ভাবনার কথা আগে থেকেই উল্লেখ করেছে।

তবে গোপনীয়তা নিয়ে এত বিতর্কের মাঝেও চশমাটির বিক্রি মোটেও কমছে না। মেটার মুখপাত্র ট্রেসি ক্লেটন জানিয়েছেন যে, যে কোনো প্রযুক্তির মতোই এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিদের দায়িত্বশীল হতে হবে। তার মতে, অপব্যবহার রোধে মেটার বিশেষ দল কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারীর ওপরই দায় বর্তায়। এদিকে অ্যাপল এবং স্ন্যাপ-ও তাদের নিজস্ব স্মার্ট চশমা বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে। গুগলও তাদের ব্যর্থ হওয়া ‘গুগল গ্লাস’ প্রকল্পের এক দশক পর আবারও এই খাতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে অগমেন্টেড রিয়ালিটি বা এআর চশমার ব্যবহার আরও বাড়বে, যার প্রতিটি মডেলেই ক্যামেরা থাকা বাধ্যতামূলক।

পেশাদার এবং প্রযুক্তি সচেতন ব্যবহারকারীদের কাছে এই চশমাটি বেশ কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে। আইএসজি-র পরামর্শক মার্ক স্মিথ প্রতিদিন মেটার এই চশমা ব্যবহার করেন। তার মতে, গান শোনা বা ফোনে কথা বলার জন্য এটি অত্যন্ত সুবিধাজনক কারণ এটি কানে কোনো ব্লকিং তৈরি করে না। ভ্রমণের সময় দ্রুত ছবি তোলা বা ভিডিও করার ক্ষেত্রেও এটি ফোন বের করার ঝামেলা কমায়। তবে স্মিথ স্বীকার করেছেন যে, ভিডিও রেকর্ড করার সময় চশমার ফ্রেমের ছোট্ট আলোটি দিনের আলোতে খুব একটা চোখে পড়ে না, যার ফলে আশপাশের মানুষ বুঝতেই পারে না তারা নজরদারির শিকার হচ্ছেন কি না। প্রযুক্তির এই আগ্রাসন আগামী দিনে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সংজ্ঞা বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

banner
Link copied!