শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ব্রিটিশ ধনীর তালিকা: বিলিয়নিয়ার ক্লাবে বেকহ্যাম, তালিকায় ওয়েসিস

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৫, ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

ব্রিটিশ ধনীর তালিকা: বিলিয়নিয়ার ক্লাবে বেকহ্যাম, তালিকায় ওয়েসিস

Ai - ছবি

যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম বিলিয়নিয়ার ক্রীড়াবিদ হিসেবে নাম লিখিয়েছেন স্যার ডেভিড বেকহ্যাম। ২০২৬ সালের বার্ষিক সানডে টাইমস রিচ লিস্ট বা ব্রিটিশ ধনীর তালিকায় এই দম্পতির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন পাউন্ড। তালিকায় আরও এক চমক হিসেবে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছেন ব্রিটিশ রক ব্যান্ড ‘ওয়েসিস’-এর দুই ভাই নোয়েল এবং লিয়াম গ্যালঘের। জনপ্রিয় এই ব্যান্ডটির দুই কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পীর মোট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৩৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টানা পঞ্চম বছরের মতো তালিকার শীর্ষে রয়েছেন সঞ্জয় এবং ধীরাজ হিন্দুজা।

হিন্দুজা গ্রুপের কর্ণধার এই দুই ভাইয়ের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৩৮ বিলিয়ন পাউন্ড। তাদের এই বিশাল সাম্রাজ্য তেল, গ্যাস, ব্যাংকিং এবং পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত। এই বছরের তালিকায় সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছেন ফিনটেক কোম্পানি রিভোলুট-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিক স্টোরনস্কি এবং ট্রেডিং উদ্যোক্তা অ্যালেক্স গারকো। তবে সার্বিকভাবে যুক্তরাজ্যে বিলিয়নিয়ার বা শতকোটিপতিদের সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশটিতে বর্তমানে ১৫৭ জন বিলিয়নিয়ার রয়েছেন, যা চার বছর আগের তুলনায় ২০ জন কম।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের সম্পদের হিসাবও এই তালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। রাজা চার্লসের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৪০ মিলিয়ন পাউন্ড বেড়ে ৬৮০ মিলিয়নে পৌঁছেছে। সম্পদের এই উর্ধ্বগতির কারণে তিনি তালিকার ২৩০তম স্থানে উঠে এসেছেন। মজার বিষয় হলো সম্পদের পরিমাণে রাজা এখন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী রিশি সুনাক এবং তার স্ত্রী অক্ষতা মূর্তিকে পেছনে ফেলেছেন, যাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৫৬৩ মিলিয়ন পাউন্ড। তবে সবার ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল না; উদ্ভাবক স্যার জেমস ডাইসন এই বছর সবচেয়ে বেশি সম্পদ হারিয়েছেন। গত বছরের তুলনায় তার সম্পদ ৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড কমে বর্তমানে ১২ বিলিয়ন পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আংশিক মালিক স্যার জিম র‍্যাটক্লিফের সম্পদও ১৭ বিলিয়ন থেকে কমে ১৫ দশমিক ১৯ বিলিয়ন পাউন্ডে নেমেছে।

তালিকায় নতুন যুক্ত হওয়া বিশিষ্ট নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন গ্ল্যাস্টনবারি উৎসবের সংগঠক এমিলি ইভিস এবং তার পরিবার, যাদের সম্পদের পরিমাণ ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ড। উৎসব থেকে প্রাপ্ত মুনাফা সম্পর্কে ইভিস এর আগে জানিয়েছিলেন যে তারা আয়ের একটি বড় অংশ জনকল্যাণে দান করার চেষ্টা করেন। এছাড়া স্যার এলটন জন, স্যার মিক জ্যাগার, জে কে রাউলিং এবং লুইস হ্যামিল্টনের মতো পরিচিত মুখগুলো বরাবরের মতোই তালিকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। তবে তালিকার একটি নতুন দিক হলো অনেক বিদেশি ধনকুবের এবার যুক্তরাজ্য ছেড়ে চলে গেছেন।

তালিকায় থাকা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ব্রিটিশ নাগরিক এখন আর ব্রিটেনের মূল ভূখণ্ডে বসবাস করেন না। রিচ লিস্ট প্রস্তুতকারক রবার্ট ওয়াটস জানিয়েছেন যে ব্রিটিশ ধনীদের একটি বড় অংশ এখন দুবাই, সুইজারল্যান্ড এবং মোনাকোতে স্থানান্তরিত হচ্ছেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দেশত্যাগের পাশাপাশি ব্রিটিশ নাগরিকদের এই ‘স্থানান্তর’ প্রক্রিয়া দেশটির অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের জন্য এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। তরুণ ধনীদের তালিকায় বক্সার টাইসন ফিউরি অভিষেক ঘটিয়েছেন এবং ৪০ বছরের কম বয়সী ধনীদের তালিকায় শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছেন ডিউক ও ডাচেস অফ ওয়েস্টমিনিস্টার। এই তরুণ ধনীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই লন্ডনের এআই স্টার্ট-আপ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের সঙ্গে যুক্ত।

তথ্যসূত্র: বিবিসি নিউজ ও রয়টার্স

banner
Link copied!