শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মানুষে মানুষে ভাতৃত্ববোধ: ইসলামি দৃষ্টিকোণে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৫, ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

মানুষে মানুষে ভাতৃত্ববোধ: ইসলামি দৃষ্টিকোণে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি

Ai - ছবি

বর্তমান বিশ্বে মানুষের বাহ্যিক আধুনিকতা বাড়লেও অভ্যন্তরীণ দূরত্ব ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। একই ছাদের নিচে বসবাস করেও মানুষ একে অপরের প্রতি অপরিচিত ও উদাসীন হয়ে পড়ছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাইয়ের সঙ্গে ভাইয়ের বিবাদ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা কিংবা বন্ধুদের মাঝে হিংসা-বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়া এখনকার সমাজে সাধারণ চিত্রে পরিণত হয়েছে। তবে ইসলাম কখনো মানুষের মাঝে বিভেদ বা অহংকারকে সমর্থন করে না; বরং ধর্মটি পারস্পরিক ভালোবাসা, ক্ষমা ও সহনশীলতার ওপর ভিত্তি করে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের আহ্বান জানায়।

পবিত্র কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী সব মুমিনই আসলে পরস্পর ভাই।

আল্লাহ তাআলা সূরা হুজুরাতের ১০ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট করেছেন যে, মুমিনরা ভাই ভাই, তাই বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়া এবং আল্লাহকে ভয় করা অপরিহার্য যাতে রহমত পাওয়া যায়। এই নির্দেশনা কেবল একটি ধর্মীয় বাণী নয়, এটি একটি সুস্থ সমাজ কাঠামোর মূল স্তম্ভ। যেখানে মানুষের অন্তরে ক্ষমা থাকবে, সেখানেই আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ নেমে আসবে। অন্যদিকে হিংসা ও শত্রুতা কেবল ব্যক্তিগত অশান্তিই বাড়ায় না, বরং সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও নষ্ট করে দেয়।

সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বা স্বার্থের সংঘাতে মানুষ বছরের পর বছর কথা বলা বন্ধ রাখে, যা জীবনের ক্ষণস্থায়ী রূপের সম্পূর্ণ বিপরীত। রাসূলুল্লাহ (সা.) কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, কোনো মুসলমানের জন্য তার ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন রাখা বৈধ নয় (সহীহ বুখারী)। মানুষের এই অহংকার ও জেদ মৃত্যুর পর অর্থহীন হয়ে পড়ে। রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও সতর্ক করেছেন যে, প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার মানুষের আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয় এবং সবাইকে ক্ষমা করা হলেও যাদের মধ্যে শত্রুতা রয়েছে, তারা এই ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

ইসলাম প্রতিশোধের বদলে সংশোধনের এবং ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়ার বদলে ভালোবাসা বিলিয়ে দেওয়ার শিক্ষা দেয়। সূরা ফুসসিলাতের ৩৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে যে, মন্দকে উত্তম আচরণ দিয়ে প্রতিহত করলে চরম শত্রুও অন্তরঙ্গ বন্ধুতে পরিণত হতে পারে। এটিই ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য। একটি সালাম, একটি আন্তরিক কথা বা একটি ছোট ক্ষমা একটি মৃতপ্রায় সম্পর্ককে নতুন জীবন দান করতে পারে। জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত, তাই একে ঘৃণা বা বিদ্বেষ দিয়ে নষ্ট করার কোনো মানে হয় না।

ক্ষমা করার মাধ্যমেই একজন মানুষ প্রকৃত শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

আজকের সমাজে শান্তির সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো নরম হৃদয় ও ভ্রাতৃত্ববোধ। অহংকার ত্যাগ করে সম্পর্ক জোড়া লাগানোর চেষ্টাই হওয়া উচিত একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। কাউকে কষ্ট দিয়ে যে সাময়িক তৃপ্তি পাওয়া যায়, তার চেয়ে ক্ষমা করে যে মানসিক প্রশান্তি মেলে তা অতুলনীয়। মহান আল্লাহ আমাদের অন্তর থেকে হিংসা ও বিদ্বেষ দূর করে পরস্পরের প্রতি দয়ালু ও ক্ষমাশীল হওয়ার তৌফিক দান করুন এবং সমাজে প্রকৃত শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করুন।

banner
Link copied!