হাসি ও কান্নার সমান্তরালে গড়া মানুষের এই ক্ষণস্থায়ী জীবন। পৃথিবীতে মানুষের আগমন ঘটে কান্নার মধ্য দিয়ে, অথচ তার আগমনে চারপাশের মানুষ হাসে। ইসলাম মনে করে, একজন মুমিন যদি পার্থিব জীবনে মহান আল্লাহর প্রতি ভয় রেখে এবং তাঁর ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশিত জীবনবিধান মেনে চলে, তবে তার বিদায় হবে হাসতে হাসতে। তখন তার পরকালীন সুসংবাদ দেখে জগতবাসী তার জন্য অশ্রু বিসর্জন দেবে। পবিত্র কোরআনে মানুষের এই স্বভাবজাত হাসি ও তার বিভিন্ন রূপ নিয়ে চমৎকার ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে।
মানবজীবনে কে কতটা হাসবে কিংবা কাঁদবে, তার পরিমাপ নির্ধারণ করেন স্বয়ং মহান আল্লাহ। তিনি মানুষকে আনন্দের মুহূর্তে হাসার ক্ষমতা দেন, আবার বেদনার ক্ষণে চোখে দেন অশ্রু। তাই মুমিনের উচিত আল্লাহর কাছেই একটি সুখময় জীবনের হাসি এবং আল্লাহভীতির পবিত্র চোখ কামনা করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে:
এমনকি মহান আল্লাহর একটি অন্যতম গুণ বা বৈশিষ্ট্য হলো হাসা, যা তাঁর পবিত্র সত্তার মতোই চিরন্তন এবং তা কোনো সৃষ্টির হাসির মতো নয়। সহিহ বুখারির (হাদিস: ৬৫৭৩) এক বর্ণনায় এসেছে, জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ ব্যক্তির আকুল আবেদনে সাড়া দিয়ে আল্লাহ তাআলা একপর্যায়ে হেসে দেবেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দান করবেন।পবিত্র কোরআনের মোট ১০টি আয়াতে `জিহিক` বা হাসির প্রসঙ্গ এসেছে। তাফসিরবিদদের মতে, কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী মানুষের হাসিকে মূলত পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়:
ইসলাম মানুষকে আনন্দ প্রকাশ বা স্বাভাবিক হাসি থেকে কখনো বারণ করে না। তবে যে হাসি মানুষকে আল্লাহ থেকে বিমুখ করে দেয় এবং অন্যের অন্তরে আঘাত হানে, তা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, "কিন্তু তাদেরকে নিয়ে তোমরা এত ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতে যে, তা তোমাদেরকে আমার কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল।" (সুরা মুমিনুন, আয়াত: ১১০)। উদাসীনতা ও খেল-তামাশার অট্টহাসি মানুষের অন্তরের আধ্যাত্মিক জীবন্ত ভাবকে মেরে ফেলে। তাই পার্থিব জীবনে মুমিন হাসির চেয়ে আল্লাহর ভয়ে কান্না ও পরকালের চিন্তাকে প্রাধান্য দেয়।
মুমিনের হাসির আদর্শ পদ্ধতি হলো ‘মুচকি হাসি’ বা মৃদু হাসি। এটিই ছিল আম্বিয়ায়ে কেরাম ও আমাদের প্রিয় নবী (সা.)-এর সুন্নাহ। শায়খ উসাইমিন (রহ.)-এর মতে, হাসি তিন প্রকার—প্রাথমিক (মুচকি হাসি), মধ্যম (মৃদু হাসি) এবং চরম (উচ্চস্বরে অট্টহাসি)। ইসলামে অট্টহাসি বা বুক ফাটানো শব্দ করে হাসাকে কোনো জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য সমীচীন মনে করা হয়নি। নবীগণ সবসময় মুচকি হাসির মাধ্যমে মানুষের অন্তরে আনন্দ ছড়াতেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুন্নাহ পদ্ধতিতে জীবনযাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
