বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

কোরবানির নেসাব ২০২৬: কত সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব?

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৩, ২০২৬, ১১:০১ পিএম

কোরবানির নেসাব ২০২৬: কত সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব?

ইসলামি শরিয়তে কোরবানি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে পশু জবেহ করা সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব বা আবশ্যক। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে যে ঠিক কতটুকু সম্পদ থাকলে একজন ব্যক্তির ওপর কোরবানি দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়। ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী এর একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড বা নেসাব রয়েছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে তোমরা তোমাদের রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ো এবং কোরবানি করো (সূরা আল-কাওসার, ১০৮:২)। এই নির্দেশনার মাধ্যমেই কোরবানির অপরিহার্যতা স্পষ্ট করা হয়েছে।

কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য প্রধান শর্ত হলো ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া। কোনো প্রাপ্তবয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিষ্কের মুসলিম যদি এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের বাইরে সাড়ে ৫২ ভরি রুপার সমমূল্যের সম্পদের মালিক হন তবে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব। বর্তমান বাজারমূল্য ও রুপার দরের ওঠানামা বিবেচনায় ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী এই নেসাবের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৮ টাকা ধরা হচ্ছে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে কোরবানির সময় রুপার সঠিক বাজারমূল্য দেখেই এই হিসাব চূড়ান্ত করতে হবে।

নেসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন কোন সম্পদকে গণনায় আনতে হবে তা নিয়ে ইসলামি স্কলাররা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এর মধ্যে নগদ টাকা, সোনা, রুপা, অলঙ্কার, ব্যবসার পণ্য এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি বা বাড়ি অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া অতিরিক্ত গাড়ি বা অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও এই হিসাবের আওতায় আসবে। তবে বসবাসের ঘর, দৈনন্দিন ব্যবহারের পোশাক এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের মূল্য এই সম্পদের মধ্যে ধরা হবে না। যদি কারো কাছে এই সবকিছুর সমষ্টি নেসাব স্পর্শ করে তবেই তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে। হাদিস শরিফে এসেছে যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে (মুসনাদে আহমদ, ২:৩২১)।

কোরবানি কেবল পশু জবেহ করার আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং এটি মুমিনের ত্যাগ এবং আনুগত্যের পরীক্ষা। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে কোরবানির দিনে পশু কোরবানি করার চেয়ে আল্লাহর কাছে প্রিয় আর কোনো আমল নেই (তিরমিজি, ১৪৯৩)। হযরত ফাতেমা (রা.)-কে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও জানিয়েছিলেন যে পশুর প্রথম রক্তবিন্দু ঝরার সাথেই আল্লাহ বান্দার গুনাহ ক্ষমা করে দেন। এটি এমন একটি সওয়াবের কাজ যা কেবল নির্দিষ্ট বংশের জন্য নয় বরং সকল মুসলিম উম্মাহর জন্য উন্মুক্ত। তাই নেসাব পূর্ণ হলে অবহেলা না করে এই ইবাদত পালন করা প্রত্যেক মুমিনের নৈতিক দায়িত্ব।

banner
Link copied!