বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

ট্রাম্পের চীন সফর: বাণিজ্য ও ইরান ইস্যু নিয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৪, ২০২৬, ১২:২৫ এএম

ট্রাম্পের চীন সফর: বাণিজ্য ও ইরান ইস্যু নিয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার সন্ধ্যায় এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে বেইজিংয়ে অবতরণ করেছেন। সেখানে তাকে রাজকীয় আড়ম্বর ও আভিজাত্যের সাথে স্বাগত জানানো হয়। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এই উচ্চপর্যায়ের শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পের এই সফর বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দুই দিনের এই সফরে দুই পরাশক্তির মধ্যে শুল্ক, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা, ইরান যুদ্ধ এবং তাইওয়ানের সাথে আমেরিকার সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ২০১৭ সালের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং দৃঢ়চেতা চীনের মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক চাপে থাকা অবস্থায় এই সফরটি ট্রাম্পের জন্য একটি বড় পরীক্ষা।

বিমানবন্দরের লাল গালিচায় ট্রাম্পকে স্বাগত জানান চীনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ভাইস প্রেসিডেন্ট হান জেং। গত সফরে নিম্নপর্যায়ের নেতাদের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানানো হলেও এবার শীর্ষ পর্যায়ের নেতার উপস্থিতি ট্রাম্পের প্রতি বেইজিংয়ের বাড়তি সম্মানের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ সময় একটি সামরিক ব্যান্ড এবং পতাকা হাতে থাকা সমর্থকরা ট্রাম্পকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। প্রেসিডেন্টের এই সফরে তার ছেলে এরিক ট্রাম্প ছাড়াও আমেরিকার প্রযুক্তি জগতের একঝাঁক শীর্ষ ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। এদের মধ্যে টেসলার ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং অন্যতম। এছাড়াও অ্যাপল, ব্ল্যাকরক এবং বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহীরাও এই প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত আছেন। অবতরণের আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, তিনি শি জিনপিংকে অনুরোধ করবেন যাতে এই মেধাবী উদ্যোক্তারা চীনে তাদের কাজ আরও প্রসারিত করতে পারেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুল্ক যুদ্ধ এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০২২ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬৯০.৪ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছর কমে দাঁড়িয়েছে ৪১৪.৭ বিলিয়ন ডলারে। ট্রাম্পের এবারের সফরের অন্যতম লক্ষ্য হলো এই বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে যা রপ্তানি করেছে তার চেয়ে ২০০ বিলিয়ন ডলার বেশি মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে। এদিকে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় চীন নিজেকে বিশ্বসেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে, যার ফলে মার্কিন চিপের চাহিদাও বাড়ছে। তবে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মধ্যে চীনা কোম্পানিগুলোর প্রযুক্তি চুরির আতঙ্ক থাকায় রপ্তানির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিবিসি জানাচ্ছে, বাণিজ্য ক্ষেত্রে ট্রাম্প চাইবেন চীন যেন আরও বেশি মার্কিন কৃষি পণ্য কেনে, অন্যদিকে বেইজিং চাইবে শুল্ক কমানোর প্রতিশ্রুতি।

আলোচনার টেবিলে ইরানের যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত। চীন তার তেলের চাহিদার বড় একটি অংশের জন্য ইরানের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় এই তেল সরবরাহ বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে। দশকের পর দশক ধরে ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্রতা রয়েছে। ওয়াশিংটন চাইছে চীন যেন ইরানের ওপর তাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যুদ্ধের অবসান ঘটায়। চীন নিজেও চায় এই যুদ্ধ শেষ হোক, কারণ তেলের উচ্চমূল্য তাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি শি জিনপিংয়ের সাথে দীর্ঘ আলোচনা করবেন ঠিকই, কিন্তু যুদ্ধের সমাধানে কারো সাহায্যের প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন না।

সবশেষে তাইওয়ান ইস্যুটি এই সফরের নেপথ্যে উত্তেজনা তৈরি করছে। ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য বড় ধরনের অস্ত্র চুক্তি অনুমোদন করলেও তাদের রক্ষায় সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে। সম্প্রতি একদল মার্কিন সিনেটর ট্রাম্পকে চিঠি দিয়ে তাইওয়ানের প্রতি সমর্থন বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ রাষ্ট্রীয় ভোজসভা এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে সফরের মূল কার্যক্রম চলবে। শুক্রবার দুপুরে মধ্যাহ্নভোজের পর ট্রাম্পের চীন ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

banner
Link copied!