সৌদি আরবের পবিত্র মদিনা নগরীর ঐতিহাসিক কুবা মসজিদে দর্শনার্থী ও মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে পরীক্ষামূলকভাবে চালকবিহীন অত্যাধুনিক শাটল বাস বা রোবোবাস সেবা চালু করা হয়েছে। সৌদি পরিবহন সাধারণ কর্তৃপক্ষ এবং মদিনা অঞ্চল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে এই উদ্ভাবনী পরিবহন ব্যবস্থাটি চালু করা হয়। বুধবার মদিনা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এই প্রকল্পটি সৌদি আরবের টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা ও ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে মদিনায় আসা বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মুসল্লিদের জন্য একটি আধুনিক ও নিরাপদ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি দ্বারা পরিচালিত এই চালকবিহীন বাসটিতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ২০ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন। বাসের ভেতরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এতে উচ্চ রেজুলেশনের ক্যামেরা এবং সেন্সর যুক্ত করা হয়েছে যা মসজিদ এলাকার ভেতরে পথচারীদের চলাচল পর্যবেক্ষণ করবে। সৌদি গ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এই রোবোবাসটি কুবা মসজিদের অভ্যন্তরীণ চত্বরে প্রায় ৭০০ মিটার দীর্ঘ একটি পরিকল্পিত রুট অনুসরণ করবে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বাসটি মূলত আগে থেকেই নির্ধারিত গলফ কার্টের রুটগুলো ব্যবহার করবে যাতে সাধারণ দর্শনার্থীদের চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
প্রকল্পটি মূলত ৬০ দিনের একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মদিনার বর্তমান অবকাঠামোর সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় যানের সমন্বয় এবং ডিজিটাল মানচিত্রের কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এই পরীক্ষার মাধ্যমে অর্জিত তথ্য ভবিষ্যতে সৌদি আরবের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতেও চালকবিহীন যানবাহন চালুর পথ প্রশস্ত করবে। প্রযুক্তির এই স্থানীয় প্রয়োগ মূলত সৌদি ভিশন ২০৩০-এর স্মার্ট পরিবহন লক্ষ্যমাত্রার একটি প্রতিফলন। বিশেষ করে ২০২৬ সালকে সৌদি আরব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বছর হিসেবে ঘোষণা করায় এই প্রকল্পের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে।
উলেখ্য যে এই রোবোবাস হলো এল-৪ পর্যায়ের একটি বৈদ্যুতিক মিনিবাস যা কোনো মানুষের সাহায্য ছাড়াই চলতে সক্ষম। এতে থাকা লাইডার প্রযুক্তি লেজার আলোর মাধ্যমে চারপাশের পরিবেশ স্ক্যান করে গাড়ির সামনে থাকা কোনো বস্তু বা মানুষের দূরত্ব ও অবস্থান নির্ভুলভাবে বুঝতে পারে। এর ফলে জনাকীর্ণ স্থানেও এটি অত্যন্ত কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। মদিনার দর্শনার্থীদের প্রবেশপথের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী এই বাস সেবাটি বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক মুসল্লিদের যাতায়াত আরও আরামদায়ক করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সৌদি আরবের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে স্মার্ট সিটি গড়ার দৌড়ে তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করল।
