বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধের মাঝে আমিরাতে নেতানিয়াহুর ‘গোপন সফর

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৪, ২০২৬, ১২:১৫ এএম

ইরান যুদ্ধের মাঝে আমিরাতে নেতানিয়াহুর ‘গোপন সফর

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান তীব্র সামরিক উত্তজনা ও যুদ্ধের মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক সংক্ষিপ্ত ও অত্যন্ত গোপনীয় সফর করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক আকস্মিক বিবৃতিতে এই সফরের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন রোর অব দ্য লায়ন’ বা সিংহের গর্জন নামক সামরিক অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেতানিয়াহু এই সফরটি করেন। মূলত ইরানের সঙ্গে চলমান সম্মুখ সমরের মাঝে আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করাই এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গোপন এই সফরে নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এই বৈঠককে ইসরায়েল ও আমিরাতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। যদিও সফরের সুনির্দিষ্ট সময়সূচী বা আলোচনার বিস্তারিত বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকির মোকাবিলায় একটি সমন্বিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে গভীর আলোচনা হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে হরমোজ প্রণালিতে ইরানের নৌ-অবরোধ এবং আকাশপথে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির মুখে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর অবস্থান ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর এই সফর মূলত আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বা ইব্রাহিমীয় চুক্তির স্থায়িত্ব যাচাই করার একটি পরীক্ষা ছিল। কারণ আরব বিশ্বের একটি বড় অংশই ফিলিস্তিন ও ইরান ইস্যুতে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা নিয়ে এখনো দ্বিধাবিভক্ত।

সফরের পর দেওয়া সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে যে, এই সফর দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে এই সফর নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠকের আগে নেতানিয়াহুর এই আমিরাত সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি পরিষ্কার করে দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলো পর্দার আড়ালে এক শক্তিশালী নিরাপত্তা জোট গঠনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করতে পারে।

banner
Link copied!