যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের যুদ্ধের ১২তম সপ্তাহে পদার্পণ এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য অ্যারিজোনা রাজ্যে পৌঁছাতে যাচ্ছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। অ্যারিজোনার মরুভূমি বেষ্টিত টাসান শহরকে আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য টিম মেল্লির বেসক্যাম্প হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বের বৃহত্তম এই ক্রীড়া আসরের আগে ইরানি খেলোয়াড়দের নিরাপদ ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা টাসানের কিনো স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ইরান দলের অনুশীলনের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কিনো স্পোর্টস কমপ্লেক্সের পরিচালক সারাহ হানা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে তারা ইরানি দলকে আতিথ্য দেওয়ার জন্য অত্যন্ত উৎসাহিত এবং তারা দলটিকে একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা উপহার দিতে চান। তিনি জানান যে খেলোয়াড়দের জন্য একটি মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাঠের ঘাস নিয়মিত পানি দিয়ে ভেজানো হচ্ছে এবং ফিফার নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট উচ্চতায় ছাঁটা হচ্ছে। মূলত লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সিয়াটলে ইরানের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানকার মাঠের ধরনের সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই টাসানে এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড়দের থাকার জন্য হোটেলের কক্ষ এবং গোপনীয় আলোচনার জায়গাগুলো ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে যেখানে গোয়েন্দা সংস্থার কড়া নজরদারি থাকবে।
টাসানে এই উৎসবমুখর প্রস্তুতির বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্মিলিতভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরানও পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় যা এক ভয়াবহ যুদ্ধের সূত্রপাত করে। যদিও বর্তমানে এক মাসের একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে কিন্তু ইরান কর্তৃক হরমোজ প্রণালী কার্যত বন্ধ রাখা এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে পরিস্থিতি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক ঘোষণায় জানিয়েছেন যে যেভাবেই হোক যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জয়ী হবে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ইরানকে টুর্নামেন্টে রাখার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে যা ক্রীড়াঙ্গনের নিরপেক্ষতার একটি বড় দৃষ্টান্ত।
সারাহ হানা আরও জানিয়েছেন যে এই প্রশিক্ষণ শিবিরের প্রস্তুতির তদারকিতে বর্তমানে সপ্তাহে গড়ে ১২ থেকে ২০টি সমন্বয় সভা করা হচ্ছে। এর মধ্যে খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ফিফার কর্মকর্তাদের সাথে মাঠের কারিগরি মান যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ফিফা থেকে ভিন্ন কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত ইরানই তাদের কাছে নির্ধারিত দল এবং তারা সেভাবেই পূর্ণ উদ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন। টাসানের ফুটবল ভক্তরা আশা করছেন যে যুদ্ধের রাজনৈতিক অস্থিরতা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলবে না। অ্যারিজোনার প্রখর রোদে এই প্রস্তুতি কেবল একটি টুর্নামেন্টের অংশ নয় বরং বৈশ্বিক উত্তেজনার মাঝেও মানবিক মর্যাদা রক্ষার এক বিশেষ প্রচেষ্টা।
