মানুষের জীবন যেন এক গাণিতিক ছন্দের ওপর ভিত্তি করে আবর্তিত হয়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে সংখ্যার এক অদ্ভুত প্রভাব পরিলক্ষিত হয় বলে বিশ্বাস করেন সংখ্যাতত্ত্ববিদরা। বিশেষ করে জন্ম তারিখের মাধ্যমে একজন মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং তার ভালোবাসার প্রকাশের ধরণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। জ্যোতিষশাস্ত্রের একটি শাখা নিউমারোলজি বা সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী ১ থেকে ৯ পর্যন্ত প্রতিটি সংখ্যার নিজস্ব শক্তি ও স্পন্দন রয়েছে যা কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। বর্তমান সময়ে অনেকেই জীবনসঙ্গীর মানসিকতা এবং সম্পর্কের ভবিষ্যৎ বুঝতে এই প্রাচীন পদ্ধতির ওপর নির্ভর করছেন যা আধুনিক লাইফস্টাইলেও বেশ জনপ্রিয়।
যাদের জন্ম তারিখ মাসের ১, ১০, ১৯ বা ২৮ তারিখে, তাদের জন্ম সংখ্যা ১ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই মানুষগুলো মূলত সহজাত নেতৃত্বের গুণাবলি সম্পন্ন এবং অত্যন্ত স্বাধীনচেতা হয়ে থাকেন। ভালোবাসার ক্ষেত্রে তারা সঙ্গীর প্রতি চরম অনুগত থাকলেও তারা নিজেদের আত্মসম্মান বোধের ব্যাপারে আপসহীন। সংখ্যাতত্ত্ববিদদের মতে এই সংখ্যার মানুষরা সঙ্গীর কাছ থেকে সমান শ্রদ্ধা ও গুরুত্ব দাবি করেন এবং অসম্মান সহ্য করা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে মাসের ২, ১১, ২০ বা ২৯ তারিখে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের জন্ম সংখ্যা ২। এদেরকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ এবং সংবেদনশীল হিসেবে ধরা হয়। তারা সঙ্গীর না বলা কথা এবং মনের অব্যক্ত বেদনা সহজেই বুঝে নিতে পারেন যা সম্পর্ককে আরও গভীর ও প্রাণবন্ত করে তোলে। তবে এই সংবেদনশীলতার কারণে তারা দ্রুত আঘাত পান এবং বারবার মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হলে সম্পর্ক থেকে ধীরে ধীরে নিজেদের সরিয়ে নিতে শুরু করেন।
মাসের ৩, ১২, ২১ বা ৩০ তারিখে জন্ম গ্রহণ করা ব্যক্তিদের ব্যক্তিত্বে ৩ সংখ্যার প্রভাব থাকে যা আনন্দ ও সামাজিকতার প্রতীক। এরা সম্পর্ককে একঘেয়ে হতে দেন না এবং সর্বদা হাসিখুশি পরিবেশ বজায় রাখতে পছন্দ করেন। তবে অতিরিক্ত শাসন বা কঠোর নিয়ম এদের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়ায়। আবার ৪ সংখ্যার মানুষ যারা মাসের ৪, ১৩, ২২ বা ৩১ তারিখে জন্মেছেন, তারা বাস্তববাদী ও অত্যন্ত দায়িত্বশীল হয়ে থাকেন। তারা হুটহাট কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন না এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেন। তবে পরিবর্তনের প্রতি তাদের এক ধরণের অনীহা থাকে যা মাঝে মাঝে সঙ্গীর জন্য একঘেয়েমি তৈরি করতে পারে। ৫ সংখ্যার মানুষেরা পরিবর্তনপ্রিয় এবং স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন যা ৫, ১৪ বা ২৩ তারিখে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
সবচেয়ে রোমান্টিক এবং যত্নশীল জীবনসঙ্গী হিসেবে পরিচিত ৬ সংখ্যার মানুষেরা যারা মাসের ৬, ১৫ বা ২৪ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। এরা পরিবারের জন্য নিঃস্বার্থভাবে ত্যাগ করতে প্রস্তুত থাকেন এবং সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারদর্শী। ৭ সংখ্যার অধিকারী ব্যক্তিরা একটু অন্তর্মুখী হয়ে থাকেন যারা সহজে মনের কথা প্রকাশ করেন না। এরা মাসের ৭, ১৬ বা ২৫ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন এবং একা থাকতে বা গভীরভাবে চিন্তা করতে পছন্দ করেন। ৮ সংখ্যার মানুষরা যারা ৮, ১৭ বা ২৬ তারিখে জন্মেছেন, তারা ক্যারিয়ার এবং সম্পর্ক উভয় ক্ষেত্রেই স্থিতিশীলতা খোঁজেন। সবশেষে ৯ সংখ্যার মানুষেরা মাসের ৯, ১৮ বা ২৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন এবং এরা ভালোবাসায় পুরোপুরি নিবেদিতপ্রাণ। তবে এদের মেজাজ দ্রুত পরিবর্তন হয় যা মাঝে মাঝে সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি করতে পারে। যদিও এসব ধারণা পুরোপুরি বিজ্ঞানের কষ্টিপাথরে প্রমাণিত নয় তবুও মানুষের কৌতূহল ও প্রাচীন বিশ্বাসের মেলবন্ধন একে সমাদৃত করেছে।
