বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

ট্রাম্পের সামনে ‘খারাপ বিকল্প’: ইরান ইস্যুতে চরম কূটনৈতিক সংকট

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৩, ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম

ট্রাম্পের সামনে ‘খারাপ বিকল্প’: ইরান ইস্যুতে চরম কূটনৈতিক সংকট

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে প্রস্তাবিত নতুন শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে সৃষ্ট আশাবাদ এ সপ্তাহে ম্লান হয়ে গেছে। দুই দেশই সমঝোতার পরিবর্তে নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই স্থবির হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ইঙ্গিত অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় পুনরায় লড়াইয়ে নামতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন ট্রাম্প এখন এক জটিল গোলকধাঁধায় আটকা পড়েছেন যেখানে তার সামনে কেবল কয়েকটি খারাপ বিকল্প অবশিষ্ট রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে না শান্তি না যুদ্ধ এমন এক ধূসর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

পুনরায় যুদ্ধ শুরু করা ট্রাম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কারণ মার্কিন জনমত এই যুদ্ধের বিপক্ষে। অন্যদিকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে ট্রাম্পকে তেহরানের কাছে নতি স্বীকার করতে হতে পারে। ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমোজ প্রণালীতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার ব্যাপারে অনড় রয়েছে। ইরান দাবি করেছে যে আলোচনার প্রথম ধাপে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এবং এরপর পারমাণবিক ও প্রক্সি গ্রুপ নিয়ে আলোচনা হবে। ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে আবর্জনা বলে অভিহিত করেছেন যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের ডিরেক্টর অ্যালিসন মাইনর মনে করেন হোয়াইট হাউস বর্তমানে অত্যন্ত সংকটে রয়েছে। ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনো দেশটির ভেতরেই রয়ে গেছে এবং তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার অক্ষত আছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। তবে পুনরায় হামলা চালালে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় রাজনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে সামনে থাকা মিডটার্ম নির্বাচনের আগে যুদ্ধের প্রভাব রিপাবলিকান পার্টির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ইতোমধ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সারের দাম বাড়ায় সাধারণ মার্কিনিরা আর্থিক চাপে রয়েছেন। ইরানের নেতৃত্বের সহনশীলতা এবং শারীরিক ও অর্থনৈতিক চাপ সইবার ক্ষমতা মার্কিন প্রশাসনের ধারণার চেয়েও বেশি প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া পাঁচ সপ্তাহের নিরবচ্ছিন্ন বোমাবর্ষণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুদ কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের রিপোর্ট অনুযায়ী এই সংঘাত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের মতো অন্যান্য সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। ইরানের পাল্টা ড্রোন ও মিসাইল হামলা উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ট্রাম্পের প্রজেক্ট ফ্রিডম উদ্যোগটি স্থগিত করা হয়েছে যা মার্কিন প্রশাসনের যুদ্ধের প্রতি অনীহার ইঙ্গিত দেয়। রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী মাত্র ৩৬ শতাংশ মার্কিনি ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড অনুমোদন করছেন যা গত বছরের ৪৭ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। আসন্ন নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হলে ট্রাম্পকে এই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট দ্রুত সমাধান করতে হবে।

banner
Link copied!