বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

জেলেনস্কির সাবেক সহযোগীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৩, ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম

জেলেনস্কির সাবেক সহযোগীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এক সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী সহযোগী ও সাবেক চিফ অব স্টাফ আন্দ্রি ইয়ারমাক এখন দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বড় দুর্নীতি তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন। বুধবার কিয়েভের একটি উচ্চ আদালত এই মামলার শুনানি পুনরায় শুরু করেছে যেখানে ইয়ারমাকের বিরুদ্ধে ১০.৫ মিলিয়ন ডলার বা ৪৬০ মিলিয়ন হিরভেনিয়া পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ইউক্রেনের ন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (এনএবিইউ) এবং স্পেশালাইজড অ্যান্টি-করাপশন প্রসিকিউটর অফিস (এসএপিও) ইয়ারমাককে এই সংগঠিত অপরাধচক্রের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহ করছে। কিয়েভের অভিজাত এলাকা কোজিনে অবস্থিত ডাইনেস্টি নামক একটি বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্পের আড়ালে এই অর্থ পাচার করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। গত সোমবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।

ইয়ারমাক মঙ্গলবার এবং বুধবার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন যেখানে প্রসিকিউটররা তার জন্য প্রায় ৫.৪ মিলিয়ন ডলার বা ১৮০ মিলিয়ন হিরভেনিয়া জামিন নির্ধারণের আবেদন জানিয়েছেন। গত বছরের নভেম্বর মাসে রাশিয়ার সাথে চলমান যুদ্ধের এক সংবেদনশীল সময়ে ইয়ারমাক তার পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। সেই সময় থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। যদিও আদালতে ইয়ারমাক তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন যে তার মালিকানায় মাত্র একটি অ্যাপার্টমেন্ট ও একটি গাড়ি রয়েছে। দীর্ঘ ৩০ বছরের আইন পেশার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাকে কেন এমন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তবে তদন্তকারী সংস্থাগুলো বলছে যে তারা পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ হাতে পাওয়ার পরেই এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এই বিশাল দুর্নীতি মামলার শিকড় গত বছরের নভেম্বর মাসে শুরু হওয়া অপারেশন মিডাস নামক একটি বড় তদন্তের সাথে যুক্ত। মূলত ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা এনারগোয়াটম থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং জ্বালানি খাতের অনিয়ম নিয়ে এই তদন্ত শুরু হয়েছিল। তদন্তকারীদের বিশ্বাস যে এনারগোয়াটম থেকে সরিয়ে নেওয়া অর্থই ডাইনেস্টি আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই মামলায় কেবল ইয়ারমাকই নন বরং জেলেনস্কির আরও বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি চেরনিশভ এবং জেলেনস্কির এক সময়ের ব্যবসায়িক অংশীদার ও ধনকুবের তিমুর মিন্দরিচ। মিন্দরিচ বর্তমানে ইসরায়েলে অবস্থান করছেন এবং তাকে মামলার অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে ধরা হচ্ছে।

জেলেনস্কি নিজে সরাসরি এই দুর্নীতিতে অভিযুক্ত না হলেও তার সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই তদন্ত ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পাওয়ার দৌড়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ইউক্রেনের জন্য একটি বড় শর্ত। পশ্চিমা দেশগুলো থেকে পাওয়া সামরিক ও আর্থিক সহায়তার স্বচ্ছতা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে ঠিক সেই মুহূর্তেই এই কেলেঙ্কারি সামনে এলো। ইউক্রেনের বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তম উমেরভকেও এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে যা প্রশাসনের ভেতরে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রেসিডেন্টের প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রো লিটভিন জানিয়েছেন যে তদন্ত চলমান থাকায় এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে জেলেনস্কির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্য এবং যুদ্ধকালীন নেতৃত্বের ওপর এই তদন্তের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

banner
Link copied!