বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

২০২৬ সালে ফ্যাশন দুনিয়ায় ঝড় তুলেছে ‘অদ্ভুত জুতো’র ট্রেন্ড

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৪, ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

২০২৬ সালে ফ্যাশন দুনিয়ায় ঝড় তুলেছে ‘অদ্ভুত জুতো’র ট্রেন্ড

কারো কারো কাছে জুতো মানে কেবল পায়ের সুরক্ষা, আর তাই যত সাদামাটা হয় ততই ভালো। কিন্তু ফ্যাশন সচেতনদের কাছে জুতো হলো পুরো আউটফিটের ‘প্রধান চরিত্র’। এক সময় নজরকাড়া জুতোর অর্থ ছিল হাই-হিল বা চকচকে স্টিলেটো। তবে ২০২৬ সালে এসে সেই ধারণা পুরোপুরি বদলে গেছে। ফ্যাশন দুনিয়ায় এখন রাজত্ব করছে ফ্ল্যাট, চওড়া, কিছুটা অদ্ভুত এবং দেখতে আলুথালু—এক কথায় কিম্ভুতকিমাকার সব জুতো, যাকে ফ্যাশন বোদ্ধারা বলছেন ‘আগলি শু’ বা কুৎসিত জুতোর ট্রেন্ড।

এই অদ্ভুত জুতো বা ‘উইয়ার্ড শু’ মূলত প্রচলিত মার্জিত রূপ বা ‘গুড টেস্ট’-কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু উপহার দিচ্ছে। পাঁচ আঙুল বিশিষ্ট গ্লাভসের মতো স্নিকার্স থেকে শুরু করে শ্লেষ্মার মতো রঙের ‘গার্ডানা’ গার্ডেনিং ক্লগস—সবই এখন ব্রুকলিন থেকে প্যারিসের ট্রেন্ডি তরুণদের পায়ে পায়ে ঘুরছে। এমনকি ২০২৩ সালে ডিজাইনার জোনাথন অ্যান্ডারসনের হাত ধরে ফ্যাশন র‍্যাম্পে ফিরে আসা ব্যাঙের আকৃতির ‘ওয়েলিপেট’ বুট জুতোও এখন ফ্যাশনের অংশ।

সংকরায়ন বা ‘ফ্রাঙ্কেনশু’র যুগ

বর্তমানে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে বিভিন্ন জুতোর নকশাকে জোড়াতালি দিয়ে নতুন রূপ দেওয়ার এক প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘ফ্রাঙ্কেনশু’। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘স্নিকারিনা’—যা মূলত কেডস এবং ব্যালে পাম্পের একটি নান্দনিক মিশ্রণ। এছাড়া আরেকটি অদ্ভুত জুতো হলো ‘স্নোফার’ (Snoafer), যা স্নিকার্স এবং লোফারের সংমিশ্রণ। আমেরিকান গণমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একে জুতোর জগতের ‘স্পর্ক’ (চামচ ও কাঁটাচামচের হাইব্রিড) বলে অভিহিত করেছে। মোজা-বুট, ক্লগ-ট্রেইনার এবং ২০০০ সালের শুরুর দিকের ওয়েজ-ট্রেইনারগুলোও এখন নতুন করে বাজারে ফিরে আসছে।

সংখ্যার খেলায় এআই-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ

এই অদ্ভুত জুতোর চাহিদা কিন্তু কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের হুজুগে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর আসল বাণিজ্যিক চাহিদাও আকাশচুম্বী। রিসেল প্ল্যাটফর্ম ‍‍`স্টকএক্স‍‍` (StockX)-এর ব্রেন্ডন ডান জানান, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (Q1) মেরি জেন-অনুপ্রাণিত স্নিকার্সের বিক্রি গত বছরের তুলনায় ৩৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। নিউ ব্যালেন্সের স্নোফার মডেল ‘১৯০৬এল’ বাজারে আসার পর থেকে স্টকএক্সে ১৩,০০০-এরও বেশিবার বিক্রি হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে খেলাধুলা, ফ্যাশন এবং অপ্রত্যাশিত ডিজাইনের এই সংমিশ্রণকে গ্রাহকরা দারুণভাবে লুফে নিচ্ছেন।

ফ্যাশন নিউজলেটার ‘ফ্যাশন টিংজ’-এর নির্মাতা জে’নে ফিলিপস বিবিসিকে বলেন:

"মানুষ এখন এমন ফ্যাশন পণ্য পছন্দ করছে যা অন্যকে চমকে দেয়, আলোচনার খোরাক জোগায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ধরণের ভিজ্যুয়াল মিম হিসেবে কাজ করে।

কেন এই অদ্ভুত জুতোর জয়জয়কার?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অদ্ভুত ট্রেন্ডের পেছনে কাজ করছে ‘রং শু থিওরি’ বা ভুল জুতোর তত্ত্ব। ২০২৩ সালে টিকটকে অ্যালিসন বর্নস্টেইন এই তত্ত্বটি জনপ্রিয় করেন। তত্ত্বটি হলো—আপনার পোশাকের সাথে সম্পূর্ণ অমিল বা একটু ‘বেমানান’ কোনো জুতো পরাই হলো নিজের ব্যক্তিত্ব প্রকাশের সেরা উপায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই স্লপ’ এবং ইনস্টাগ্রামের অতিরিক্ত গোছানো ও নিখুঁত গ্রিডের এই যুগে, এই ‘কুৎসিত’ জুতো মানুষের এক ধরণের বাস্তববাদী ও নিখুঁত-বিরোধী শক্তির (anti-perfection energy) বহিঃপ্রকাশ।

মার্কেট রিসার্চ এজেন্সি ‘ভার্ভ’-এর মেগ পামেরের মতে, মেইসন মার্জিলার ‘টাবি’ (Tabi) জুতোর মতো স্লিট-টো বা চেরা আঙুলের জুতো পরা এখন একটি অভিজাত সাব-কালচারের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ এখন আর অতি-পরিকল্পিত বা অনুমানযোগ্য উপায়ে পোশাক পরতে চাচ্ছে না। ফলে এই অদ্ভুত ও কিম্ভুতকিমাকার জুতো পরা কেবল কোনো স্টাইল নয়, বরং এটি এক ধরণের রুচির স্বাধীনতা এবং রসবোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

banner
Link copied!