যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য যখন দুই পক্ষ আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই দক্ষিণ লেবাননে আকাশপথে হামলা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) সকালে লেবাননের শ্রীফা (Srifa) শহরে একটি আবাসিক প্রকল্পে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের হামলায় অন্তত ২ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (NNA) জানিয়েছে, ইসরায়েল কেবল হামলা জোরদারই করেনি, বরং দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য ‘ফোর্সড ডিসপ্লেসমেন্ট’ বা জোরপূর্বক উচ্ছেদ আদেশ জারি করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ আটটি গ্রাম ও শহরের নাম উল্লেখ করে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এগুলো হলো:
- লিব্বায়া (Libbaya)
- সাহমার (Sahmar)
- তাফাহাতা (Taffahata)
- কাফর মালেক (Kafr Malek)
- ইয়হমোর (বেকা)
- আইন তিনেহ (Ain Tineh)
- হুমিন আল-ফাউকা (Houmin al-Fawqa)
- মাজরাত সিনা (Mazraat Sina)
হামলার তীব্রতা সম্পর্কে বৈরুত থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি ররি চ্যাল্যান্ডস জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে ইসরায়েল কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের সবচেয়ে ভয়াবহ আকাশ হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে বৈরুত থেকে দক্ষিণে যাওয়ার প্রধান উপকূলীয় মহাসড়কে ড্রোন ব্যবহার করে গাড়ি ও মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে একের পর এক টার্গেট কিলিং বা সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হচ্ছে। এনএনএ-র তথ্যমতে, ব্রেকা এবং জ্রারিয়েহ শহরের মাঝামাঝি একটি কারিগরি স্কুলের কাছে ড্রোন হামলায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া পশ্চিম বেকা অঞ্চলের আইন আল-তিনেহ শহরেও শক্তিশালী বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চের শুরুতে এই সংঘাত পুনরায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২,৮৯৬ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি আলোচনার আগে এই ধরনের ব্যাপক বোমাবর্ষণ মূলত প্রতিপক্ষ হিজবুল্লাহর ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার একটি কৌশল। তবে এই পরিস্থিতির জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ লেবানিজরা, যাদেরকে কোনো ঘোষণা ছাড়াই প্রতিনিয়ত ঘরবাড়ি ছেড়ে উদ্বাস্তু হতে হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় আসন্ন এই শান্তি আলোচনা কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে এখন জনমনে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।
