শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কর তদন্ত থেকে মুক্তি পেলেন রেইনার: স্টারমারের জন্য বাড়ছে চাপ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৫, ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

কর তদন্ত থেকে মুক্তি পেলেন রেইনার: স্টারমারের জন্য বাড়ছে চাপ

যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারকে কর ফাঁকির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এইচএমআরসি। ৪০ হাজার পাউন্ডের অনাদায়ী স্ট্যাম্প ডিউটি পরিশোধের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তদন্তকারী সংস্থাটি তাদের ফাইল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই নিষ্পত্তির ফলে ব্রিটিশ লেবার পার্টির প্রথম সারির রাজনীতিতে রেইনারের ফেরার পথ এখন অনেকটাই পরিষ্কার বলে মনে করা হচ্ছে।

রেইনারের এই জয় কিয়ার স্টারমারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বিপর্যয়ের পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে। ঠিক এমন সময়েই রেইনারের আইনজীবীরা এইচএমআরসি-কে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছিলেন। দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিঠি দেওয়ার পরদিনই রেইনারকে জানানো হয় যে তার বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। বৃহস্পতিবার সকালে রেইনার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন যে তিনি অনাদায়ী ৪০ হাজার পাউন্ড পরিশোধ করে দিয়েছেন।

ইস্ট সাসেক্সে ৮ লাখ পাউন্ড মূল্যের একটি হলিডে হোম কেনার সময় স্ট্যাম্প ডিউটি সংক্রান্ত এই জটিলতা তৈরি হয়েছিল। রেইনার শুরুতে ৭০ হাজার পাউন্ডের জায়গায় ৩০ হাজার পাউন্ড পরিশোধ করেছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর গত সেপ্টেম্বরে তিনি উপ-প্রধানমন্ত্রী ও আবাসন মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তখন অভিযোগ উঠেছিল যে তিনি তার বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে কর এড়িয়েছেন। তবে রেইনার সবসময়ই দাবি করে এসেছেন যে তিনি সরল বিশ্বাসে কাজ করেছেন এবং কোনো উদ্দেশ্যমূলক ভুল করেননি।

বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি এই নিষ্পত্তিকে ‍‍`সুইটহার্ট ডিল‍‍` বা সুবিধাজনক রফা হিসেবে বর্ণনা করেছে। শ্যাডো চ্যান্সেলর অ্যালেক্স বার্গহার্ট প্রশ্ন তুলেছেন যে একজন হবু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দাবিদার কেন রাজনৈতিক সুবিধার জন্য শেষ মুহূর্তে কর পরিশোধ করবেন। কর বিশেষজ্ঞরা রেইনারের ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক জরিমানা না করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সাধারণত অবহেলার কারণে কর পরিশোধে দেরি হলে সাধারণ করদাতাদের জরিমানা গুণতে হয়। কিন্তু রেইনারের ক্ষেত্রে কেবল মূল অর্থ পরিশোধেই বিষয়টি মিটে গেছে।

রেইনারের আইনজীবী গ্রাহাম অ্যারনসন কেসি জানিয়েছেন যে এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয় যে এই সপ্তাহেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে। তিনি আশা করেছিলেন মার্চ মাসের শেষেই তদন্ত শেষ হবে, কিন্তু এইচএমআরসি-র দীর্ঘতর তদন্ত প্রক্রিয়া সেই সময় বাড়িয়ে দেয়। এদিকে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেইনার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এখন প্রধানমন্ত্রীর নিজের অবস্থান নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। তার এই মন্তব্য স্টারমারের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একটি পরোক্ষ চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেইনারের এই প্রত্যাবর্তনে লেবার পার্টির অভ্যন্তরে ক্ষমতার লড়াই নতুন মোড় নিতে পারে। স্টারমার যখন জনমত জরিপে পিছিয়ে পড়ছেন, তখন রেইনার নিজেকে বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ পাচ্ছেন। যদিও এইচএমআরসি ব্যক্তিগত কর সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে এই নিষ্পত্তির মাধ্যমে রেইনারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আবারও উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

banner
Link copied!