শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৩১ চৈত্র ১৪৩৩

রাজনৈতিক সংকটে ভাগ্য গণনাকারীর শরণাপন্ন জেলেনস্কির সহযোগী

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৪, ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম

রাজনৈতিক সংকটে ভাগ্য গণনাকারীর শরণাপন্ন জেলেনস্কির সহযোগী

ইউক্রেনের রাজনীতিতে একদা দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি এবং প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাবেক চিফ অব স্টাফ অ্যান্ড্রি ইয়ারমাকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলার শুনানি চলাকালীন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক সংকটের সময়ে ইয়ারমাক একজন ভাগ্য গণনাকারীর শরণাপন্ন হয়েছিলেন এবং নিজের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও শত্রুদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য গোপন পরামর্শ নিয়েছিলেন। আদালতের কৌঁসুলিরা ইয়ারমাকের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা রাশিয়ার আক্রমণ ও যুদ্ধের মাঝেই ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই ঘটনা তীব্র আলোড়ন ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

কিয়েভের বিশেষ দুর্নীতি দমন প্রসিকিউটরের কার্যালয় বৃহস্পতিবার আদালতে জানায় যে, ইয়ারমাক তার সরকারি ক্ষমতায় থাকাকালীন ‘ভেরোনিকা ফেং শুই’ নামে একটি কন্টাক্ট নাম্বারে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এই নম্বরটি ছিল কিয়েভের ৫১ বছর বয়সী জ্যোতিষী ও ভাগ্য গণনাকারী ভেরোনিকা অনিকিয়েভিচের। প্রসিকিউটরদের দাবি অনুযায়ী, ইয়ারমাক তার মিত্র ও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের জন্মতারিখ ওই ভাগ্য গণনাকারীর সঙ্গে শেয়ার করতেন। ভেরোনিকা তাকে মেসেজে প্ররোচনা দিয়ে লিখেছিলেন যে শত্রুদের এখনই থামানো না গেলে তারা ক্ষমতা দখল করবে এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে হয় তাকে টিকতে হবে না হয় প্রতিপক্ষকে শেষ হতে হবে।

সাবেক এই প্রভাবশালী চিফ অব স্টাফ তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। আদালতে শুনানির সময় তিনি দাবি করেন যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বেশ কয়েকজন ভেরোনিকাকে চিনলেও কোনো ভাগ্য গণনাকারীর সঙ্গে কখনো কোনো ধরনের গোপন যোগাযোগ করেননি। এদিকে এই ঘটনা ফাঁসের পরপরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে অত্যন্ত দ্রুত ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা দিমিত্রো লিটভিন এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে কোনো ধরনের গুপ্তবিদ্যা, সংখ্যাতত্ত্ব কিংবা ফেং শুইয়ের মতো বিষয়ের চর্চা বা প্রশ্রয় দেওয়া হয় না। যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে এই ধরনের বিতর্ককে সরকার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে যে ভাগ্য গণনাকারী ভেরোনিকা অনিকিয়েভিচের পারিবারিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে রাশিয়ার যোগসূত্র রয়েছে। রেডিও স্বোবোদার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ভেরোনিকার বাবা একজন রুশ নাগরিক, যিনি ২০১৫ সালে ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলের একটি রুশপন্থী রাজনৈতিক দল অপজিশন ব্লকের আঞ্চলিক শাখার দায়িত্বে ছিলেন। ভেরোনিকা নিজেও ২০১৫ সালে রাশিয়ার বিতর্কিত ক্রিমিয়া অঞ্চল সফর করেছিলেন এবং তার বাবা বর্তমানে রুশ অধিকৃত একটি শহরে বসবাস করছেন। আদালতের প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন যে ইয়ারমাক কিয়েভের উপকণ্ঠে একটি অভিজাত আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার ও তছরুপ করেছেন, যা ইউক্রেনের যুদ্ধকালীন অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

শুনানি শেষে কিয়েভের আদালত অ্যান্ড্রি ইয়ারমাককে আগামী ৬০ দিনের জন্য প্রাক-বিচার আটকাদেশ বা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যদি না তিনি নির্ধারিত ১৪ কোটি হ্রিভনিয়া বা ২৪ লাখ পাউন্ড সমপরিমাণ জামিন বন্ডের অর্থ পরিশোধ করতে পারেন। আদালত কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় স্যুট পরিহিত ইয়ারমাক সাংবাদিকদের জানান যে তার কাছে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ নেই এবং তিনি এই আটকাদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে দীর্ঘ সময় জেলেনস্কির সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে একসঙ্গে রাত কাটানো এই শীর্ষ কর্মকর্তার পতন ইউক্রেনের দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

banner
Link copied!