শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

লন্ডনে বড় প্রতিবাদের আগে ১১ ‘উগ্রবাদী’র ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৫, ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

লন্ডনে বড় প্রতিবাদের আগে ১১ ‘উগ্রবাদী’র ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা

ছবি : সংগৃহীত

লন্ডনে উগ্র ডানপন্থি সমাবেশকে কেন্দ্র করে বড় ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ব্রিটিশ সরকার। দেশটিতে আসন্ন একটি বিশাল র্যালিকে সামনে রেখে ১১ জন বিদেশি উগ্র ডানপন্থি আন্দোলনকারীকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। ইসলাম-বিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত অ্যাক্টিভিস্ট টমি রবিনসনের আহ্বানে শনিবার ‍‍`ইউনাইট দ্য কিংডম‍‍` নামক এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হওয়ার কথা রয়েছে।

লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ ৪ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে।

একই দিনে লন্ডনের অন্য একটি অংশে বার্ষিক ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ বা ‍‍`নাকবা দিবস‍‍` পালিত হবে। দুইটি বিপরীতমুখী সমাবেশের কারণে যে কোনো ধরণের সহিংস সংঘর্ষ এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, ঘৃণা ও বিভেদ ছড়ানো ব্যক্তিদের রুখে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। যারা রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে বা কাউকে ভয় দেখাতে আসবে, তাদের আইনের কঠোর মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

নিষিদ্ধ হওয়া ১১ জনের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইসলাম-বিদ্বেষী ইনফ্লুয়েন্সার ভ্যালেন্টিনা গোমেজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি এর আগে গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত উগ্র ডানপন্থি সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন। ওই কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এবারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মেট পুলিশ প্রথমবারের মতো লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন ক্যামেরা ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে। এছাড়া সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে ড্রোন এবং দাঙ্গা দমনের সরঞ্জামও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস বা সিপিএস থেকে প্রকাশিত নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত উগ্রবাদী স্লোগান বা প্ল্যাকার্ড ঘৃণা ছড়ানোর পর্যায়ে পড়লে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিলে ‍‍`ইন্তিফাদা‍‍` সংক্রান্ত স্লোগান দিলে গ্রেফতার করার নির্দেশনা রয়েছে। পাবলিক প্রসিকিউশনের পরিচালক স্টিফেন পার্কিনসন স্পষ্ট করেছেন যে, এটি বাকস্বাধীনতা হরণ নয় বরং জননিরাপত্তা ও ঘৃণা প্রতিরোধ করার একটি প্রচেষ্টা।

লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কয়ার ও ওয়াটারলু প্লেসে এই পৃথক সমাবেশগুলো আয়োজিত হবে। এছাড়া ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে এফএ কাপের ফাইনাল থাকায় দশ লক্ষাধিক ফুটবল ভক্তের সমাগম ঘটবে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

banner
Link copied!