শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নাগাটাইটান: থাইল্যান্ডে মিলল ২৭ টন ওজনের দানবীয় ডাইনোসর

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৫, ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম

নাগাটাইটান: থাইল্যান্ডে মিলল ২৭ টন ওজনের দানবীয় ডাইনোসর

Ai - ছবি

থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক দশক আগে একটি পুকুরের পাড় থেকে উদ্ধার করা জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে নতুন এক প্রজাতির দানবীয় ডাইনোসরের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। ‘নাগাটাইটান’ নামক এই ডাইনোসরটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এ যাবৎকালে আবিষ্কৃত বৃহত্তম ডাইনোসর বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, এই ডাইনোসরটি ওজনে প্রায় ২৭ টন ছিল, যা প্রায় নয়টি পূর্ণবয়স্ক এশীয় হাতির সমান। ২৭ মিটার দীর্ঘ এই প্রাণীটি ডিপ্লোডোকাস ডাইনোসরের চেয়েও লম্বা ছিল এবং এটি দীর্ঘ ঘাড় বিশিষ্ট তৃণভোজী ‘সরোপড’ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।

নাগাটাইটান ডাইনোসরটি প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণ করত।

যুক্তরাজ্য ও থাইল্যান্ডের একদল গবেষক যৌথভাবে এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। ডাইনোসরটির পূর্ণ বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘নাগাটাইটান চেইয়াপুমেনসিস’ (Nagatitan chaiyaphumensis)। এর নামের পেছনের কারণও বেশ আকর্ষণীয়। ‘নাগা’ শব্দটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার লোকগাঁথার সাপের প্রতীক থেকে নেওয়া হয়েছে, ‘টাইটান’ গ্রিক পুরাণের দেবতাদের নির্দেশ করে এবং ‘চেইয়াপুমেনসিস’ এসেছে থাইল্যান্ডের চেইয়াপুম প্রদেশ থেকে, যেখানে জীবাশ্মগুলো প্রথম খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। গবেষকরা বলছেন, টি-রেক্স ডাইনোসরের চেয়েও প্রায় ৪ কোটি বছর আগে এই নাগাটাইটানদের অস্তিত্ব ছিল এবং আকারে তারা টি-রেক্সের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বড়।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (UCL) থাই ডক্টরাল শিক্ষার্থী থিটিওয়ুত সেথাপানিচসাকুল এই গবেষণার প্রধান লেখক হিসেবে কাজ করেছেন। সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় তিনি নাগাটাইটানকে থাইল্যান্ডের ‘দ্য লাস্ট টাইটান’ বা সর্বশেষ দানব হিসেবে অভিহিত করেছেন। কারণ এই জীবাশ্মগুলো থাইল্যান্ডের সবচেয়ে কম বয়সী ডাইনোসর-বাহী শিলাস্তরে পাওয়া গেছে। সেথাপানিচসাকুল জানান, ডাইনোসর যুগের শেষের দিকে এই অঞ্চলটি অগভীর সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল, তাই নাগাটাইটানই হয়তো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্বশেষ বড় সরোপড ডাইনোসর ছিল।

থাইল্যান্ডে এ পর্যন্ত ১৪টি প্রজাতির ডাইনোসরের নামকরণ করা হয়েছে।

মহাসারখাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাশ্মবিদ ড. সীতা মনিতকুন জানান, ডাইনোসরের জীবাশ্মের বৈচিত্র্যের দিক থেকে থাইল্যান্ড এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ। নাগাটাইটান যখন পৃথিবীতে রাজত্ব করত, তখন বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা ছিল অনেক বেশি। এই আবিষ্কারটি বিজ্ঞানীদের বুঝতে সাহায্য করবে যে কীভাবে প্রতিকূল জলবায়ু পরিস্থিতির মধ্যে ডাইনোসররা তাদের বিশাল শরীর নিয়ে টিকে থাকত। ইউসিএল-এর অধ্যাপক পল আপচার্চের মতে, উচ্চ তাপমাত্রায় বিশাল দেহের ডাইনোসরদের টিকে থাকা কিছুটা আশ্চর্যজনক, কারণ বড় শরীর তাপ ধরে রাখে এবং তা শীতল করা কঠিন।

গবেষকরা মনে করছেন, তখনকার উচ্চ তাপমাত্রা উদ্ভিদের প্রকৃতির ওপর প্রভাব ফেলেছিল, যা এই বিশাল তৃণভোজী প্রাণীদের প্রধান খাদ্য ছিল। নাগাটাইটান আবিষ্কারের এই ঘটনাটি কেবল প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বই বহন করে না, বরং প্রাগৈতিহাসিক জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে প্রাণীদের অভিযোজন প্রক্রিয়া বুঝতেও নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

banner
Link copied!