সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমোজ প্রণালী এড়াতে তার তেল রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে ‘ওয়েস্ট-ইস্ট পাইপলাইন’ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান শুক্রবার আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (আডনক) এক নির্বাহী সভায় এই ঘোষণা দেন। মূলত ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশটির পূর্ব উপকূলের ফুজাইরা বন্দরের তেল রপ্তানি সক্ষমতা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
২০২৭ সালের মধ্যে এই পাইপলাইন চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবুধাবি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক জ্বালানির চাহিদা মেটাতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে আডনক এখন আগের চেয়ে বেশি তৎপর। শেখ জায়েদ জানিয়েছেন, রপ্তানি ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে বাজার চাহিদা অনুযায়ী দায়িত্বশীলভাবে তেলের উৎপাদন ও সরবরাহ বজায় রাখতে আমিরাত প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ চেইনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশেষ করে হরমোজ প্রণালীতে ইরানের নতুন সামুদ্রিক প্রোটোকল এবং অবরোধের আশঙ্কায় উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প বাণিজ্য পথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে।
বর্তমানে আমিরাতের আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইন (ADCOP) হাবশান থেকে ফুজাইরা পর্যন্ত বিস্তৃত, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার। ২০১২ সালে চালু হওয়া এই পাইপলাইনের দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল। ওমান সাগরের উপকূলে অবস্থিত ফুজাইরা বন্দরটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ব্যবহার করলে হরমোজ প্রণালী অতিক্রম করার প্রয়োজন পড়ে না। বর্তমানে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পার হয়, কিন্তু সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় এই পথে ঝুঁকি বেড়েছে।
আমিরাতের মতো সৌদি আরবও তাদের রপ্তানি নিরাপদ রাখতে ১২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইন ব্যবহার করছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা আরামকো এই পাইপলাইনকে তাদের রাজ্যের জন্য ‘লাইফলাইন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে কুয়েত, ইরাক, কাতার এবং বাহরাইনের মতো দেশগুলো এখনও তাদের বাণিজ্যের জন্য প্রায় সম্পূর্ণভাবে হরমোজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আমিরাত ও সৌদি আরবই কেবল বিকল্প পথ তৈরিতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক (OPEC) থেকে নিজেদের সদস্যপদ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিল। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ও অর্থনৈতিক রূপকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। আডনক এখন লোহিত সাগর ও ওমান সাগরের বিকল্প পথগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই পাইপলাইন প্রকল্পটি আমিরাতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
