লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি শহরে ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এই উত্তেজনার রেশ ধরে রাজধানী ট্রিপলিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ করেছে উত্তেজিত জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে ট্রিপলির আল-ইত্তিহাদ এসসিএসসি এবং মিসরাতার আসওয়েহলি এসসির মধ্যকার ম্যাচটি স্থগিত হওয়ার পর এই বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত হয়। রাজধানী থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত তারহুনা শহরে এই সংঘাত শুরু হয়েছিল বলে জানা গেছে।
মাঠের উত্তেজনা রাজপথে দাঙ্গায় রূপ নেয়।
লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা লানা (LANA) জানিয়েছে, খেলা চলাকালীন একটি পেনাল্টি কিক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন আল-ইত্তিহাদের ফুটবলাররা। ম্যাচটি মূলত দর্শকহীন স্টেডিয়ামে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তীব্র হলে ম্যাচটি স্থগিত করে দেওয়া হয়। এরপরই স্টেডিয়ামের বাইরে উপস্থিত সমর্থক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সূত্রগুলো।
দাঙ্গা তারহুনা ছাড়িয়ে দ্রুত রাজধানী ট্রিপলিতে ছড়িয়ে পড়ে। লিবিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, একদল মানুষ রাজধানীর ‘কাউন্সিল অব মিনিস্টার্স’ বা মন্ত্রী পরিষদের সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা সেখানে ভাঙচুর চালায় এবং ভবনের একটি অংশে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে লানা জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই ‘দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার’ নিন্দা জানানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল এই ঘটনার দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, কোনো অন্যায়ের প্রতিকার সহিংসতা দিয়ে নয় বরং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত। বর্তমানে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ফুটবল মাঠে রেফারির একটি সাধারণ সিদ্ধান্ত থেকে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক উত্তাপ লিবিয়ার নাজুক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আবারও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। পরিস্থিতি এখন থমথমে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা।
