শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধের আবহে আবুধাবিতে মোদি-জেদ বৈঠক, সই প্রতিরক্ষা চুক্তি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৬, ২০২৬, ১২:৪৭ এএম

ইরান যুদ্ধের আবহে আবুধাবিতে মোদি-জেদ বৈঠক, সই প্রতিরক্ষা চুক্তি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও সামুদ্রিক জাহাজ পরিবহণসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা জোরদার করতে নতুন কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। শুক্রবার আবুধাবিতে সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই ঐতিহাসিক চুক্তিগুলো সম্পন্ন হয়। ছয় দিনের বিদেশ সফরের প্রথম অংশ হিসেবে মোদি আবুধাবিতে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

দুই নেতার এই বৈঠকটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

নতুন এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার প্রতিরক্ষা, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং যৌথ সামরিক মহড়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশ উন্নত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা, যা বর্তমান সরবরাহ সংকটের সময়ে ভারতের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। সমঝোতা অনুযায়ী, ইউএইর ফুজাইরাহ অঞ্চলে সংরক্ষিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এখন থেকে ভারতের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এই চুক্তিটি এমন এক সময়ে স্বাক্ষরিত হলো যখন পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি ইউএইর পূর্ব উপকূলীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল ফুজাইরাহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ওই হামলায় ফুজাইরাহর একটি তেল শোধনাগারে আগুন লেগে যায় এবং সেখানে কর্মরত কয়েকজন ভারতীয় শ্রমিক আহত হন। এই ঘটনার পর ভারতের পক্ষ থেকে তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি করিডোরের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে আবুধাবির সঙ্গে জরুরি আলোচনা শুরু করা হয়।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত হচ্ছে ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বৈশ্বিক বাণিজ্য অংশীদার। দেশটিতে বর্তমানে ৪৫ লক্ষাধিক ভারতীয় প্রবাসী বসবাস ও কাজ করছেন, যার ফলে মোদির এই সফরে প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতারা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

banner
Link copied!