শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘খাদের কিনারা’ থেকে অর্থনীতিকে ফেরাতে হয়েছে: সাবেক অর্থ উপদেষ্টা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৬, ২০২৬, ১২:৩৮ এএম

‘খাদের কিনারা’ থেকে অর্থনীতিকে ফেরাতে হয়েছে: সাবেক অর্থ উপদেষ্টা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে নিমজ্জিত ছিল। ক্ষমতা সীমিত হওয়া এবং রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের অভাব থাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন কোনো দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের চেয়ে ভেঙে পড়া প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে সামাল দিতেই অন্তর্বর্তী সরকারকে বেশি মনোযোগ দিতে হয়েছিল। শুক্রবার (১৫ মে) বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

অনেকে এক দিনে সব পরিবর্তন দেখতে চান, কিন্তু বাস্তবতা হলো গভীর সংকট রাতারাতি সমাধান করা যায় না।

সাবেক এই উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দৃশ্যমান সব পরিবর্তন না এলেও অর্থনীতি ও প্রশাসনের বিভিন্ন খাতে ভিত্তিগত কিছু কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি তাঁর কাজের ধারাকে মেরামত (রিপেয়ার) এবং সংস্কার (রিফর্ম)—এই দুটি ভাগে ভাগ করে পরিচালনা করেছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার সময় ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজার এবং রাজস্ব প্রশাসনসহ সামষ্টিক অর্থনীতির প্রায় সব সূচকেই তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছিল। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল এবং সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্য ছিল নেতিবাচক, যা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় আনা সম্ভব হয়েছে।

ব্যাংক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, রাজনৈতিক অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব ও দুর্বল আইনের কারণে এই খাতের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল রূপ নিয়েছে। কাঠামোগত আইনি পরিবর্তন ছাড়া শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনার ওপর ভর করে ব্যাংকিং খাতে স্থায়ী সুশাসন ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার কাজ অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ হলেও বর্তমান উন্নত প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কারণে আগের তুলনায় কম সময়ে অর্থ উদ্ধারের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই সুশাসনের তীব্র অভাব এবং জবাবদিহির দুর্বল সংস্কৃতির কারণে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের কঠোর সমালোচনা করেন।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রপ্তানি খাতের দুর্বলতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি, যার ফলে অভ্যন্তরীণ শিল্প খাতে উৎপাদনশীলতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। রপ্তানি খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সুরক্ষামূলক প্রণোদনা দেওয়া হলেও অনেক দেশীয় শিল্প এখনও বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারেনি। বিশ্ব অর্থনীতির নতুন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যনীতি, চীনের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং বৈশ্বিক শুল্ক পরিস্থিতির পরিবর্তনকে দেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি নতুন গ্র্যাজুয়েটদের শুধু পেশাগতভাবে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এই দ্রুত সময়ে তিনি শিক্ষার্থীদের আজীবন শেখার মানসিকতা ধরে রাখার তাগিদ দেন। আইবিএর পরিচালক অধ্যাপক আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবর্তনে বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ এবং ডিবিএ প্রোগ্রামের মোট ৩৬৫ জন শিক্ষার্থীকে অফিশিয়ালি ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

banner
Link copied!