ইউক্রেনের রাজধানী কিইভে গত ৪৮ ঘণ্টায় নজিরবিহীন আকাশপথে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বুধবার ও বৃহস্পতিবারের এই অভিযানে রাশিয়া ১ হাজার ৪০০-এর বেশি ড্রোন এবং ৫৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে। কিইভের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই ড্রোনের বড় একটি অংশ ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও কিছু ড্রোন আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে। রয়টার্সের সরবরাহ করা ছবিতে দেখা গেছে, কিইভ শহরের রাস্তায় সাধারণ মানুষ আহত অবস্থায় পড়ে আছেন এবং অনেক যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রাশিয়ার এই নজিরবিহীন হামলার মূল লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিইভ।
মস্কোর রেড স্কয়ারে ৯ মে ‘ভিক্টরি ডে’ প্যারেডকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের স্মরণে আয়োজিত এই কুচকাওয়াজে ইউক্রেন হামলা করতে পারে—এমন আশঙ্কায় আগে থেকেই হুমকি দিয়ে রেখেছিল ক্রেমলিন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ৫ মে থেকে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু মস্কো সেই প্রস্তাবে সাড়া দিতে দেরি করে এবং শেষ পর্যন্ত ৭ মে একতরফাভাবে শান্তি প্রস্তাব পেশ করে, যেখানে কিইভকে তাদের শর্ত মানতে বাধ্য করার প্রচ্ছন্ন হুমকি ছিল।
যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাশিয়ার আকাশপথে এই তীব্রতা মূলত তাদের স্থলবাহিনীর ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা। পূর্ব ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা এখন অনেকটাই থমকে গেছে। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী একটি সফল প্রতিরোধ অভিযানের মাধ্যমে সম্মুখ সমরে রাশিয়ার জ্বালানি ও অস্ত্র সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানগুলো সামনে এগোতে পারছে না। ফ্রন্টলাইনের এই স্থবিরতা কাটাতে এবং ইউক্রেনের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করতেই কিইভকে লক্ষ্য করে ড্রোন বৃষ্টির এই কৌশল নিয়েছে মস্কো।
হামলার সময়রেখাটি বিশ্লেষণ করলে রাশিয়ার আগ্রাসী মনোভাব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ভিক্টরি ডে-র দিন অর্থাৎ ৯ মে ৪৩টি ড্রোন ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ১০ মে ২৭টি ড্রোন ব্যবহারের পর ১১ মে কিছুটা শান্ত ছিল কিইভ। কিন্তু সেই রাত থেকেই ড্রোন হামলার তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়। ১২ ও ১৩ মে প্রায় ৮৯২টি ড্রোন দিয়ে কিইভে হামলা চালানো হয়। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় ১৪ মে রাতে, যখন একসাথেই ৬৭৫টি ড্রোন ও ৫৬টি ক্ষেপণাস্ত্র কিইভের আকাশে হানা দেয়। ইউক্রেন সরকার একে ‘প্রতিশোধমূলক ধ্বংসযজ্ঞ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
