তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে চীন ত্যাগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরের শেষ দিনে তিনি বেশ কিছু বড় ধরণের বাণিজ্যিক চুক্তির ঘোষণা দিলেও তাইওয়ান সংকট কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধ নিয়ে কোনো কার্যকর সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি। শুক্রবার বেজিং ত্যাগ করার সময় ট্রাম্প গণমাধ্যমের কাছে তার এই সফরকে সফল হিসেবে দাবি করেন। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্পর্শকাতর ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুগুলোতে দুই পরাশক্তির মধ্যে দূরত্ব এখনও বেশ স্পষ্ট।দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল ট্রাম্পের প্রথম চীন সফর।
বেজিংয়ে অবস্থানের সময় ট্রাম্পকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়, যার মধ্যে ছিল সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার এবং শিশুদের অভিবাদন। তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অফ হেভেন’ এবং একটি গোপন রাজকীয় বাগান পরিদর্শন করেন। সফরের পরিবেশ অত্যন্ত বন্ধুসুলভ হলেও আলোচনার টেবিলে উত্তাপ কম ছিল না। শি জিনপিং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাইওয়ান ইস্যুটি চীন-মার্কিন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর বিষয়।
শি জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন যে, তাইওয়ান ইস্যুটি ভুলভাবে পরিচালিত হলে দুই দেশ সংঘাতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। এর ফলে পুরো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এয়ার ফোরস ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানিয়েছেন, শি জিনপিং তাকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিষয়ে তার কঠোর আপত্তির কথা জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্প এই বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি। তিনি বলেন, “আমি তার কথা শুনেছি কিন্তু কোনো মন্তব্য করিনি। আমি কোনো পক্ষেই কোনো প্রতিশ্রুতি দেইনি।”
তাইওয়ানের কাছে নতুন করে বিশাল অংকের অস্ত্র বিক্রির একটি প্যাকেজ এখন ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের বড় একটি অংশ এই অস্ত্র বিক্রির পক্ষে থাকলেও বেজিং শুরু থেকেই এর তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি এখনও এই অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। যদিও ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাইওয়ানের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তবুও যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে দেশটিকে কোটি কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়েও দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই বিষয়ে কোনো যৌথ বিবৃতি বা চুক্তির খবর পাওয়া যায়নি। রয়টার্সের তথ্যমতে, ট্রাম্প ইরান প্রশ্নে কোনো ‘সহায়তা’ চাননি বরং নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। সফর শেষে উভয় পক্ষই একে সফল বললেও অনেক বিষয়েই দুই দেশের বক্তব্যে ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে তাইওয়ান ও অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
