যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দিন চলছে। শুক্রবার সকালে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে বৈঠকে বসেন। এটি চলতি বছরে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার তৃতীয় রাউন্ড। ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো দক্ষিণ লেবাননে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা।
লেবানন অবিলম্বে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও আকাশপথে হামলার অবসান দাবি করেছে।
আলোচনা যখন ওয়াশিংটনে চলছে, ঠিক সেই সময় দক্ষিণ লেবাননে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ (NNA) জানিয়েছে, শুক্রবার দক্ষিণাঞ্চলীয় টায়ার শহরে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন করে সংঘাতে এ পর্যন্ত লেবাননে ২ হাজার ৯৫১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ওদিকে হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলায় শুক্রবার আরও এক ইসরায়েলি সেনার মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে সংঘাতের শুরু থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণহানি ২০-এ পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবারের প্রথম দিনের বৈঠকটি প্রায় ৮ ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল, যাকে মার্কিন কর্মকর্তারা ‘ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক’ বলে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইয়েল লাইটার এবং লেবাননের পক্ষে রয়েছেন রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদে মুয়াবাদ ও সাবেক রাষ্ট্রদূত সাইমন করম। ইসরায়েলের প্রধান দাবি হলো হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণ ও সীমানা সুরক্ষা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, লেবানন তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত গ্রামগুলো ধ্বংস করা বন্ধের ওপর জোর দিচ্ছে।
বৈঠকে মার্কিন দূত হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ও সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিওর বিশেষ উপদেষ্টারা। আগামী রোববারের মধ্যে বর্তমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, তাই এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে সহিংসতা থামবে না কি সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নেবে, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে সিআইএ (CIA) হিজবুল্লাহর অস্ত্র সরানোর বিষয়ে একটি গোপন পরিকল্পনা তৈরি করছে বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।
