শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য নতুন পরিচয়পত্র: আসছে প্রবাসী কার্ড

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৬, ২০২৬, ১২:৫৬ এএম

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য নতুন পরিচয়পত্র: আসছে প্রবাসী কার্ড

বাংলাদেশে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের সফল বাস্তবায়নের পর এবার প্রবাসী নাগরিকদের জন্য নতুন ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী দুই মাসের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের হাতে এই আধুনিক ডিজিটাল পরিচয়পত্র পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্র অনুযায়ী, মূলত বৈধ পথে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় প্রেরণ করতে কর্মীদের উৎসাহিত করতেই এই সময়োপযোগী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই কার্ডটি প্রবাসীদের তথ্য, দক্ষতা ও চাকরির সব শর্ত সংরক্ষণ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরীফুল হক চৌধুরী এই বিশেষ কার্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন।

নতুন এই প্রবাসী কার্ডটি একই সঙ্গে ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং বিশেষ আর্থিক সেবা কার্ড হিসেবে কাজ করবে।

বর্তমানে বৈধভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অধীনে বিএমইটি (BMET) কার্ড চালু রয়েছে যা সরকারি তথ্যভাণ্ডারে প্রবাসীদের তথ্য সংরক্ষণ করে। তবে নতুন চালু হতে যাওয়া প্রবাসী কার্ডে বিএমইটির সমস্ত তথ্যের পাশাপাশি আধুনিক ব্যাংকিং পেমেন্ট গেটওয়ে সিস্টেম যুক্ত করা হবে বলে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে কার্ডধারীরা আন্তর্জাতিক ডুয়েল কারেন্সি বা দ্বৈত মুদ্রা ব্যবহারের অনন্য সুবিধা পাবেন, যা দিয়ে তারা সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রার পাশাপাশি সরাসরি বাংলাদেশি টাকায়ও লেনদেন করতে পারবেন। এছাড়া প্রবাসীরা বিদেশ থেকেই এই কার্ডের মাধ্যমে অনলাইন পেমেন্টের সুবিধা ব্যবহার করে দেশে তাদের পরিবারের নির্দিষ্ট পরিমাণ খরচ ও আর্থিক হিসাব নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

নতুন এই কার্ডের সুরক্ষায় একটি আধুনিক কিউআর (QR) কোড সংযুক্ত থাকবে, যা স্ক্যান করলেই যেকোনো কর্তৃপক্ষ প্রবাসীর বিস্তারিত কর্মসংস্থান ও দক্ষতার তথ্য দেখতে পাবেন। ফলে প্রবাসীদের এই স্মার্ট কার্ডটি সার্বক্ষণিকভাবে সঙ্গে রাখার প্রয়োজন পড়বে না, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমেই এটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র হিসেবে প্রদর্শন করা যাবে। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে এটি পাসপোর্টের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে বলে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। এছাড়া সরকারের নতুন আবাসন পরিকল্পনার আওতায় দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে গড়ে উঠতে যাওয়া ‘প্রবাসী সিটি’-তে প্লট বা আবাসন ক্রয়ের ক্ষেত্রে এই কার্ডধারীরা বিশেষ আর্থিক সুবিধা ও অগ্রাধিকার পাবেন।

তবে এই নতুন কার্ডের মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতা নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় অভিবাসন विशेषज्ञों মধ্যে কিছু সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণ দেখা গেছে। অতীতে চালু হওয়া বিএমইটি কার্ড প্রবাসীদের নাগরিক সুবিধা বা দেশের বিমানবন্দরগুলোতে হয়রানি বন্ধে পুরোপুরি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী মনে করেন, নতুন কার্ডটি যেন কেবল আমলাতান্ত্রিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে প্রবাসীদের প্রকৃত উপকারে আসে, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা ভিন্ন উপায়ে গিয়ে পরবর্তীতে কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন এবং যাদের পূর্ববর্তী বিএমইটি নিবন্ধন নেই, তাদের এই সেবার আওতায় আনা বড় চ্যালেঞ্জ।

মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে যাদের ইতোমধ্যে বিএমইটি কার্ড রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন করে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে এই প্রবাসী কার্ড প্রদান করা হবে। নতুন কর্মীদের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সরকারি ফি দেওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় সরাসরি প্রবাসীদের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রবাসীদের সামাজিক সুরক্ষা প্রদানই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এই ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে দেশের প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী নাগরিক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বিমানবন্দরে তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রবাসীদের বিদ্যমান প্রবাসী বীমা, আর্থিক ক্ষতিপূরণসহ পূর্বের সব সুযোগ-সুবিধা এই নতুন স্মার্ট কার্ডের অধীনেও পুরোপুরি বহাল থাকবে।

banner
Link copied!