ফর্মুলা ওয়ান ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয় ও বিতর্কিত চরিত্র জেমস হান্টের ঐতিহাসিক বিশ্বখেতাব জয়ের ৫০ বছর পূর্ণ হয়েছে। ১৯৭৬ সালের সেই রূপকথা আজও মোটর স্পোর্টসের অন্যতম সেরা অধ্যায় হিসেবে গণ্য হয়, যেখানে জাপানের ট্র্যাকে তীব্র বৃষ্টির মধ্যে নিকি লাউডাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন এই ব্রিটিশ রেসার। বাবার এই ঐতিহাসিক অর্জনের সুবর্ণজয়ন্তীতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন তাঁর ৩৮ বছর বয়সী ছেলে ফ্রেডি হান্ট। স্কটল্যান্ডের প্রত্যন্ত বিউট দ্বীপে সম্পূর্ণ অফ-গ্রিড ও প্রকৃতি-নির্ভর জীবনযাপন করা ফ্রেডির কণ্ঠ ও চলন-বলনে আজও প্রতিধ্বনিত হয় তাঁর প্রয়াত বাবার সেই আশির দশকের চেনা আভিজাত্য।
বর্তমানে ফ্রেডি হান্ট যান্ত্রিক শহর থেকে দূরে এক ভিন্ন জীবন বেছে নিয়েছেন।
লকডাউনের সময় কেনা এই খামারে তিনি নিজের উৎপাদিত শাকসবজি, মধু এবং খামারের পশুপাখি নিয়ে সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী জীবন কাটাচ্ছেন। তবে জেমস হান্টের ছেলে হওয়ার কারণে শৈশব থেকেই এক বিশাল মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। ১৯৯৩ সালে যখন জেমস হান্ট মাত্র ৪৫ বছর বয়সে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান, ফ্রেডির বয়স তখন ছিল মাত্র ৫ বছর। বাবার মৃত্যুর ঠিক পাঁচ-ছয় মাস পর তাঁর মধ্যে এক তীব্র মানসিক আঘাত বা `ডিলেড ট্রমা` দেখা দেয়, যা তাঁর আচরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল। এর কয়েক বছর পর, ২০১৪ সালে তাঁর মা সারাহ লোম্যাক্সও স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান, যা তাঁকে আরও একাকী করে তোলে।
বাবার রেসিং ঐতিহ্য ধরে রাখতে ফ্রেডিও দেরিতে হলেও ট্র্যাকে নেমেছিলেন এবং চলতি বছর লে ম্যান্সের ২৪ ঘণ্টার রেসে অংশ নেওয়ার একটি বিশেষ প্রজেক্ট হাতে নিয়েছিলেন। তবে এফআইএর ড্রাইভার ক্যাটাগরি পরিবর্তনের কারণে স্পনসরশিপ ও ফান্ডের অভাবে সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে। বর্তমানে রেসিংয়ের পাশাপাশি তিনি তাঁর ফ্যাশন ব্র্যান্ড `এলকে হান্ট` নিয়ে কাজ করছেন, যার তৈরি পোশাক ২০২৪ সালে বাহরাইনে ম্যাকলারেনের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ল্যান্ডো নরিসকে পরতে দেখা গেছে। জেমস হান্টের জীবন নিয়ে নির্মিত বিখ্যাত হলিউড সিনেমা `রাশ` (Rush) নিয়ে নিজের ক্ষোভের কথাও জানান ফ্রেডি; তাঁর মতে, ক্রিস হেমসওয়ার্থ তাঁর বাবার চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার আগে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি।
বিশ্বযুদ্ধের মতো কোনো বৈশ্বিক সংকট তৈরি হলেও নিজের খামারে সুরক্ষিত থাকবেন বলে মনে করেন এই তরুণ। তবে বাবার স্মৃতি রোমন্থন করতে আজও তিনি পুরোনো রেসিংয়ের ভিডিওগুলো দেখেন, শুধু বাবার সেই চেনা কণ্ঠস্বরটি আরেকবার শোনার জন্য।
