কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত বিকাশ বিশ্বব্যাপী মানুষের প্রচলিত কর্মসংস্থান ও জীবিকার ওপর বড় ধরনের রূপান্তর নিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে অনেক প্রচলিত পেশা চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে, যার স্থান পুরোপুরি দখল করবে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি। লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণে মানুষের দীর্ঘদিনের তৈরি করা প্রথাগত কাজের পরিধি নাটকীয়ভাবে সংকুচিত হয়ে আসছে।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এই খাতের সুনির্দিষ্ট ঝুঁকিসমূহ তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, লেখালেখি থেকে শুরু করে গ্রাফিক্স ডিজাইনের মতো সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে এআইয়ের প্রভাবে চাকরি হারানোর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি তৈরি হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্রুত গতির কারণে এই সব কাজের মৌলিকত্ব এবং নিজস্বতা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে, যা এই পেশাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব কমিয়ে দিচ্ছে। আগামী কয়েক দশকের মধ্যে অফিস ক্লার্ক, রিসেপশনিস্ট, হিসাবরক্ষক, সিস্টেম অ্যানালিস্ট এবং সেলস ও মার্কেটিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। বিশেষ করে কৃত্রিম কণ্ঠস্বরের অভাবনীয় অগ্রগতির কারণে পেশাদার ভয়েস আর্টিস্ট বা কণ্ঠশিল্পীদের কাজের প্রয়োজনীয়তা প্রায় ৮০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে প্রযুক্তির এই সর্বগ্রাসী প্রাভাবের মাঝেও কিছু নির্দিষ্ট পেশা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। যেসব ক্ষেত্রে মানুষের সরাসরি শারীরিক উপস্থিতি বা মানবিক স্পর্শের প্রয়োজন হয়, সেই ক্ষেত্রগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে। নার্সিং, কনস্ট্রাকশন, মাইনিং, লন্ড্রি ওয়ার্কার্স এবং হসপিটালিটি সেক্টরের মতো সরাসরি শারীরিক শ্রমের সঙ্গে যুক্ত খাতগুলো ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত। যন্ত্রের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে জটিল হিসাব বা নকশা তৈরি করা সম্ভব হলেও মানুষের সরাসরি সেবামূলক আচরণের বিকল্প এখনও তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে নতুন প্রজন্মের ক্যারিয়ার ভাবনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গতানুগতিক প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার বাইরে এসে এমন সব ব্যবহারিক দক্ষতায় নিজেদের তৈরি করতে হবে যা কম্পিউটারের অ্যালগরিদম দিয়ে প্রতিস্থাপন করা অসম্ভব। এই প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে এখন থেকেই প্রচলিত কর্মদক্ষতার আধুনিকায়ন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।
তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদন
