ভারতে আইফোনের মাধ্যমে সরাসরি স্যাটেলাইট সংযোগ বা ডিরেক্ট-টু-ডিভাইস (ডিটুডি) পরিষেবা চালু করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রণমূলক চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। দেশটির কেন্দ্রীয় টেলিকম দপ্তরকে (ডিওটি) দেওয়া এক অনানুষ্ঠানিক বার্তায় সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে এই পরিষেবা চালুর জন্য বিদ্যমান স্মার্টফোনের হার্ডওয়্যারে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা নতুন করে সার্টিফিকেশনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা উচিত হবে না। অ্যাপলের মতে, স্থলভাগের বিদ্যমান ৪জি ও ৫জি মোবাইল নেটওয়ার্কের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই প্রযুক্তির বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুসরণ করা প্রয়োজন।
জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলও এই প্রক্রিয়ার একাধিক কারিগরি সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
গুগল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ স্মার্টফোনের ব্যাটারির সীমিত ক্ষমতা, আকারে অত্যন্ত ছোট বিল্ট-ইন অ্যান্টেনা এবং মহাকাশ থেকে আসা সিগন্যাল গ্রহণের দুর্বলতা এই পরিষেবা চালুর ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা। একই সঙ্গে সচল থাকা মোবাইল নেটওয়ার্কের তরঙ্গের সাথে স্যাটেলাইট সিগন্যালের সম্ভাব্য ইন্টারফেয়ারেন্স বা সংঘাতের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই জটিলতার কারণে আইডিএফ বা অন্যান্য বৈশ্বিক অপারেটরদের মতো ভারতের বাজারেও সরাসরি স্যাটেলাইট সেবা দিতে হ্যান্ডসেট মডিফিকেশনের প্রয়োজন হতে পারে, যা গ্রাহক পর্যায়ে বড় সংকট তৈরি করবে।
শিল্প খাতের বেশিরভাগ অংশীজন ও বিশেষজ্ঞই ভারত সরকারকে এই প্রযুক্তিগত ইকোসিস্টেম পুরোপুরি পরিপক্ব না হওয়া পর্যন্ত অন্তত কয়েক বছর অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। ২০২৭ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে চীনে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের `ওয়ার্ল্ড রেডিওকমিউনিকেশন কনফারেন্স` (ডব্লিউআরসি-২৭) সম্মেলনে এই পরিষেবার জন্য নির্দিষ্ট বৈশ্বিক স্পেকট্রাম ব্যান্ড নির্ধারণ করা হতে পারে। মূলত আন্তর্জাতিক নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে তড়িঘড়ি করে এই স্পেকট্রাম বরাদ্দ দিলে তা দীর্ঘমেয়াদে বেতার যোগাযোগের জন্য ক্ষতিকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
