রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

এক বছরে ৬০ লিটার মাতৃদুগ্ধ দান জোয়ালা গুট্টার: ধন্য সবাই

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৭, ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

এক বছরে ৬০ লিটার মাতৃদুগ্ধ দান জোয়ালা গুট্টার: ধন্য সবাই

ভারতের সাবেক শীর্ষ ব্যাডমিন্টন তারকা জোয়ালা গুট্টা এক বছরে প্রায় ৬০ লিটার মাতৃদুগ্ধ দান করে এক অনন্য মানবিক নজির স্থাপন করেছেন। হায়দরাবাদ এবং চেন্নাইয়ের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন অপরিণত ও গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জীবনরক্ষায় তাঁর এই মহতী উদ্যোগ দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, প্রসব-পরবর্তী নানা জটিলতার কারণে যেসব মায়েরা সন্তানদের সরাসরি স্তন্যপান করাতে পারেন না, তাদের নবজাতকদের জন্য এই পাস্তুরাইজড মানব দুগ্ধ এক পরম আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করছে।

২০২৫ সালের এপ্রিলে কন্যাসন্তান মীরার জন্মের পর থেকেই এই মানবিক যাত্রার শুরু।

কন্যা মীরার জন্মের পর জোয়ালা লক্ষ্য করেন যে তাঁর শরীরে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত পরিমাণে মাতৃদুগ্ধ উৎপন্ন হচ্ছে। এই মূল্যবান ‍‍`তরল সোনা‍‍` অবহেলায় নষ্ট না করে তিনি তা পাম্পের মাধ্যমে নিয়মিত সংগ্রহ, নিখুঁত লেবেলিং এবং নির্দিষ্ট হিমায়িত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করে বিভিন্ন মানব দুগ্ধ ব্যাংকে সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেন। আমাদের ব্যস্ত জীবনে নিজের শারীরিক ও মানসিক ধকল সামলে প্রতিদিন নিয়ম করে এই কাজ সম্পন্ন করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ ছিল বলে সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন এই তারকা। চিকিৎসকদের গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, ১ কেজি ওজনের একটি অপরিণত শিশুর পুষ্টির জন্য মাত্র ১০০ মিলিলিটার ডোনার মিল্ক কয়েক দিন পর্যন্ত যথেষ্ট হতে পারে, সেই হিসেবে তাঁর দান করা ৬০,০০০ মিলিলিটার দুধ শত শত শিশুর প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করেছে।

বিশেষ করে অপরিণত শিশুদের ক্ষেত্রে ‍‍`নেক্রোটাইজিং এন্টারোকোলাইটিস‍‍` (এনইসি) নামক একটি মারাত্মক অন্ত্রের রোগের ঝুঁকি কমাতে এই দানকৃত দুধ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। চিকিৎসকদের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম ফর্মুলা দুধের তুলনায় প্রাকৃতিক মাতৃদুগ্ধ শিশুদের এই প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। জোয়ালা গুট্টা রক্তদানের মতোই মাতৃদুগ্ধ দানকেও একটি জরুরি সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে দেখার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় দেশে মানব দুগ্ধ ব্যাংকের সরবরাহ অনেক কম, তাই প্রসূতি মায়েদের এই বিষয়ে আরও এগিয়ে আসা উচিত। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের সেলিব্রিটিদের মানবিক উদ্যোগ সমাজে সচেতনতা বাড়াতে এবং নবজাতকের অকাল মৃত্যুহার কমাতে দীর্ঘমেয়াদে বড় ভূমিকা রাখবে।

banner
Link copied!