রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইউরিন ইনফেকশন থেকে বিকল হতে পারে কিডনি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৭, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম

ইউরিন ইনফেকশন থেকে বিকল হতে পারে কিডনি

ইউরিন ইনফেকশন বা মূত্রনালীর সংক্রমণ (ইউটিআই) একটি অত্যন্ত সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হলেও সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না করালে এটি মানবদেহের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। সাধারণত প্রাথমিক অবস্থায় সঠিক ও পরিমিত চিকিৎসায় এই রোগটি কয়েক দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে এই সাধারণ সমস্যাটিকে অবহেলা করলে সংক্রমণ দ্রুত মূত্রথলি থেকে রক্তনালীর মাধ্যমে কিডনিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মূলত ‍‍`ই. কোলাই‍‍` নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এই সংক্রমণ ঘটে থাকে।

এই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াটি কোনোভাবে শরীরের মূত্রনালীতে প্রবেশ করলে সেখানে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে দেয়। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব, অপর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস এবং নোংরা বা পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করার কারণে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। চিকিৎসকদের মতে, প্রস্রাব করার সময় তীব্র জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি, বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া সত্ত্বেও সামান্য পরিমাণে প্রস্রাব হওয়া, তলপেটে অবিরাম ব্যথা এবং প্রস্রাব থেকে তীব্র দুর্গন্ধ হওয়া এই রোগের প্রাথমিক ও সাধারণ লক্ষণ।

সংক্রমণ যখন মূত্রথলি অতিক্রম করে সরাসরি কিডনিকে আক্রান্ত করে, তখন রোগীর শরীরে কিছু মারাত্মক ও জটিল উপসর্গ প্রকাশ পেতে শুরু করে। এর মধ্যে রয়েছে কাঁপুনি দিয়ে প্রচণ্ড জ্বর আসা, অনবরত বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া এবং প্রস্রাবের সঙ্গে স্পষ্ট রক্তের উপস্থিতি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে প্রবীণ ব্যক্তি, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী, গর্ভবতী নারী এবং যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে এই রোগটি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এছাড়া সামান্য সমস্যাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলেও এই সংক্রমণ আরও প্রতিরোধী ও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

এই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকতে হলে দৈনিক পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত, যা ব্যাকটেরিয়াকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। একই সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখার ক্ষতিকর অভ্যাস বর্জন করতে হবে এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। সামান্যতম উপসর্গ দেখা দিলেই নিজে ওষুধ না খেয়ে অনতিবিলম্বে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

banner
Link copied!