রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শেষে দেশে ফিরল মার্কিন বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৭, ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শেষে দেশে ফিরল মার্কিন বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড

ইরানে দীর্ঘ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার পর অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসেছে বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে আধুনিক বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’। টানা ১১ মাস আন্তর্জাতিক জলসীমায় মোতায়েন থাকার পর শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) যুদ্ধজাহাজটি ভার্জিনিয়ার নরফোক নৌঘাঁটিতে এসে পৌঁছায়। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এটিই মার্কিন নৌবাহিনীর দীর্ঘতম একক সামরিক অভিযানের অন্যতম একটি রেকর্ড হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

তবে এই রণতরীর বিদায় মানেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক আধিপত্য শেষ হয়ে যাওয়া নয়।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল জেরাল্ড আর ফোর্ডের নরফোক ঘাঁটিতে ফিরে আসাকে চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধের সমাপ্তি হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় এখনও ওয়াশিংটনের একাধিক শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ও স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন রয়েছে। বিশেষ করে বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ এবং সম্প্রতি যোগ দেওয়া ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ ওই অঞ্চলে তাদের সামরিক অবস্থান বজায় রেখেছে। দুই পক্ষ আপাতদৃষ্টিতে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও কৌশলগত স্থানে এখনও বিচ্ছিন্নভাবে ছোট-বড় হামলার ঘটনা ঘটছে।

২০২৫ সালের ২৪ জুন যাত্রা শুরু করা এই বৃহত্তম রণতরীটি ক্যারিবীয় অঞ্চলে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের অভিযানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। পরবর্তীতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে কেন্দ্র করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে জাহাজটিকে তড়িঘড়ি করে পশ্চিম এশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ‍‍`অপারেশন এপিক ফিউরি‍‍` সহ একাধিক বিশেষ অভিযানে অংশ নেয় পাঁচ হাজার নাবিক সম্বলিত এই যুদ্ধজাহাজটি। নরফোক ঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর নাবিকদের স্বাগত জানিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, এই ক্রু সদস্যরা কেবল নিজেদের দায়িত্ব পালন করেননি, বরং মার্কিন নৌ ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করেছেন।

banner
Link copied!