রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ব্রেক্সিট ছিল বিপর্যয়, যুক্তরাজ্যকে ফের ইইউতে ফেরাতে চান স্ট্রিটিং

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৬, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম

ব্রেক্সিট ছিল বিপর্যয়, যুক্তরাজ্যকে ফের ইইউতে ফেরাতে চান স্ট্রিটিং

যুক্তরাজ্যের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ব্রেক্সিটকে একটি ‘ঐতিহাসিক ও বিপর্যয়কর ভুল’ আখ্যা দিয়ে দেশটিকে পুনরায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ফিরিয়ে নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মাথায় আজ শনিবার লন্ডনে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সম্মেলনে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে লেবার পার্টির আসন্ন নেতৃত্ব নির্বাচনে স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি নিজেকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন।

লেবার পার্টির ভেতরে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে চলমান তীব্র সংকটের মাঝেই এই বড় ঘোষণা এলো।

স্ট্রিটিং লন্ডনে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীন চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী ‘প্রোগ্রেস’-এর বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের এই বিপজ্জনক পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে ব্রিটেনের সাধারণ মানুষ স্পষ্ট বুঝতে পারছে যে নিজেদের অর্থনীতি ও বাণিজ্য পুনর্গঠন করতে এবং রুশ আগ্রাসন ও আমেরিকার বৈরী নীতি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হলে আমাদের অবশ্যই ইউরোপের সাথে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সুযোগটি এখন যুক্তরাজ্যের দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে, এবং সে কারণেই দেশটির ভবিষ্যৎ স্বার্থে যুক্তরাজ্যকে ফের ইইউতে ফেরাতে চান তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে লেবার পার্টির পরবর্তী ইশতেহারে ইইউতে ফেরার জন্য জনগণের কাছ থেকে নতুন ম্যান্ডেট বা গণরায় চাওয়া হবে।

তবে স্ট্রিটিংয়ের এই আকস্মিক ও বামপন্থীঘেঁষা অবস্থান লেবার পার্টির অভ্যন্তরেই তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দলটির সাসপেন্ডেড এমপি কার্ল টার্নার এই প্রস্তাবকে ‘গভীরভাবে বিভাজনমূলক’ বলে সতর্ক করেছেন এবং ডনকাস্টার বা ইস্ট হালের মতো যেসব অঞ্চলে ৭৪ শতাংশ মানুষ ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, সেখানে এই আলোচনা দলের জন্য রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে মনে করেন। ব্লু লেবার চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা লর্ড গ্লাসম্যানও স্ট্রিটিংয়ের সমালোচনা করে বলেছেন যে লেবার পার্টির এখন জেগে ওঠা উচিত এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করাই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। অন্যদিকে, গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম ‘লেবার পার্টিকে বাঁচাতে’ মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় নেতৃত্ব পদের লড়াই আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

পদত্যাগী স্বাস্থ্যমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বর্তমান রাজনৈতিক কৌশলকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখন দলকে তীব্র গতিতে একটি গিরিখাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন যে বর্তমানে ব্যাকবেঞ্চের প্রায় ১০০ জন লেবার এমপি স্টারমারের পদত্যাগের দাবিতে একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের জন্য চাপ দিচ্ছেন। যদি প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বশীল আচরণ করে একটি সুষ্ঠু নেতৃত্ব নির্বাচনের পথ তৈরি করে দেন, তবে লেবার পার্টি আগামী নির্বাচনে রিফর্ম ইউকে-কে সম্পূর্ণ পরাস্ত করতে পারবে।

সবশেষে স্ট্রিটিং স্বীকার করেন যে বিরোধী দলে থাকার সময় অতিরিক্ত সতর্কতার কারণে লেবার পার্টি কোনো সাহসী নীতি তৈরি করতে পারেনি, যার ফলে সরকারে আসার পর তারা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিল। এই অভ্যন্তরীণ নীতিগত শূন্যতার কারণেই উইন্টার ফুয়েল কাটের মতো বিপর্যয়কর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে এই ক্রান্তিলগ্নে প্রগতিশীলদের ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে একটি সঠিক অর্থনৈতিক পথে ফিরিয়ে নেওয়াই তার মূল লক্ষ্য।

banner
Link copied!