২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে মরক্কো বনাম কানাডা লড়াই শুরু হয়েছে, আল জাজিরা ও রয়টার্স এমনটি জানিয়েছে। এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে যে দল জয়লাভ করবে, তারা সরাসরি টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রবেশ করবে। এরপর আগামী নয় জুলাই বস্টনে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী রাউন্ডে তারা শক্তিশালী ফ্রান্স অথবা প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে। উভয় দলের জন্যই আজকের এই ম্যাচটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কানাডা যেখানে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে, মরক্কো সেখানে গত আসরের চমকপ্রদ সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে বদ্ধপরিকর।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, কাতার বিশ্বকাপে এই দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল। সেই আসরের গ্রুপ পর্বের খেলায় আটলাস লায়ন্স খ্যাত মরক্কো দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে কানাডাকে দুই-এক গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছিল। ওই ঐতিহাসিক আসরে মরক্কো মুসলিম বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে সেমিফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করে এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছিল। এবার নকআউট পর্বের এই ম্যাচে উভয় দলের জন্যই টিকে থাকার লড়াই আগের চেয়ে আরও বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মরক্কোর এই যাত্রার দিকে নজর রাখছে পুরো মুসলিম বিশ্ব, কারণ তারা বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করছে কোটি মানুষের।
মরক্কো এবারের বিশ্বকাপের ৩২ দলের রাউন্ডে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে দিয়ে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেই ম্যাচটিতে টানটান উত্তেজনার পর পেনাল্টি শুটআউটে জয় তুলে নেয় মরক্কো দল। তাদের জমাট রক্ষণভাগ এবং সুশৃঙ্খল কৌশল আবারও বিশ্বমঞ্চে প্রশংসিত হচ্ছে। অন্যদিকে, কানাডা তাদের আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে এক-শূন্য গোলে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। সেই ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে একটি চমৎকার গোলের মাধ্যমে জয় নিশ্চিত করে উত্তর আমেরিকার এই সহ-আয়োজক দেশটি।
হিউস্টনের মাঠ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যমতে, আজকের ম্যাচে শুরু থেকেই উভয় দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। বিশেষ করে কানাডার খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে চমৎকার পাসিংয়ের মাধ্যমে আক্রমণ শাণানোর চেষ্টা করছে। তবে মরক্কোর রক্ষণভাগ, বিশেষ করে গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু এবং ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বে নিজেদের দুর্গ অক্ষত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যা কম স্পষ্ট তা হলো, কানাডা পুরো নব্বই মিনিট এই তীব্র আক্রমণাত্মক ধারা বজায় রাখতে পারবে কি না। খেলা যত এগোচ্ছে, মাঠের উত্তেজনা তত বাড়ছে এবং ফুটবলপ্রেমীরা নিশ্চিতভাবেই একটি দারুণ লড়াই উপভোগ করছেন।
