মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বর্তমান বা অদূর ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আলোচনায় বসার পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মঙ্গলবার তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার বিষয়ে সম্প্রতি যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে, তার পুরোটাই ভিত্তিহীন ও অসত্য।
আব্বাস আরাগচি নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি বার্তা হাতে পাওয়ার পর তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখেছেন তেহরানের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ির কাছে ওই বার্তা পাঠানো হয়েছিল।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, বার্তাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর পর্যালোচনা এখনো শেষ হয়নি এবং বিষয়টি বর্তমানে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাদ্দে এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল যে, শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই রেজায়ির কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন ভ্যান্স।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইরানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছানোর কাজে সহায়তা করার মধ্যেই ভ্যান্সের ভূমিকা সীমাবদ্ধ ছিল।
এমন এক সময়ে কূটনৈতিক তৎপরতার এই খবর সামনে এল, যখন কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ ফের চালুর চেষ্টা চলছে। দোহায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে অচলাবস্থা কাটানোর বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানা গেছে।
চলমান এই মধ্যস্থতার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, দেশটির ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচলের বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানো।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে তেহরান ইসরায়েল এবং এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছিল।
এর ধারাবাহিকতায় গত ১৮ জুন হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচলের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে ওয়াশিংটন ও তেহরান। তবে জলপথটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সেই চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়।
