রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মাগরেব আরব প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ রাবাতের রাজপ্রাসাদে নতুন গঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের গ্রহণ করেছেন এবং দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরিকে নিয়োগ দিয়েছেন।
মরক্কোর ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী সরকারের শীর্ষ এই পদে দায়িত্ব পেলেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তাঁর রাজনৈতিক দল ৯৭টি আসন পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করার পরই এই নিয়োগের পথ সুগম হয়।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরিকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফার রাজনৈতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে এই সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
নতুন এই প্রশাসনটি মূলত একটি চারদলীয় জোটের সমর্থনে পরিচালিত হবে। এই জোটে রয়েছে অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি, ইস্তিকলাল পার্টি, সোশ্যালিস্ট ইউনিয়ন অব পপুলার ফোর্সেস এবং পার্টি অব প্রোগ্রেস অ্যান্ড সোশ্যালিজম।
গত সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে এই চারটি রাজনৈতিক দল তাদের শাসকজোট গঠনের ঘোষণা দেয়। মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে নতুন এই মন্ত্রিসভার মোট সদস্যসংখ্যা ৩২ জন।
প্রধানমন্ত্রী মানসুরি ছাড়াও নতুন এই প্রশাসনে মোট সাতজন নারী মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। আজিজ আখানুচের নেতৃত্বাধীন বিগত সরকারে নারী মন্ত্রীর সংখ্যা ছিল ছয়জন, যা এবার কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পূর্ববর্তী প্রশাসনের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট মন্ত্রী তাঁদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ধরে রেখেছেন। এর মধ্যে আবদুলওয়াফি লাফতিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নাসের বুরিটা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আবদেললতিফ ওয়াহবি অর্থমন্ত্রী হিসেবে বহাল রয়েছেন।
অন্যদিকে ইসলাম বিষয়ক ও ওয়াকফ মন্ত্রীর দায়িত্বে বহাল আছেন আহমেদ তৌফিক। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর ও প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রিসভায় নতুন একটি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
নাসির রাহৌ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর ও প্রশাসনিক সংস্কার মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। রাজধানীর রাজপ্রাসাদে বাদশাহর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক জমকালো শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে পুরো মন্ত্রিসভা অংশ নেয়।
