শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

কিয়েভ বুদাপেস্ট সম্পর্ক

হাঙ্গেরির নতুন প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগারের সঙ্গে প্রথম বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে: জেলেনস্কি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

হাঙ্গেরির নতুন প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগারের সঙ্গে প্রথম বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে: জেলেনস্কি

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগারের সঙ্গে নিজের প্রথম বৈঠকটিকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে অভিহিত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত শুক্রবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গত মে মাসে হাঙ্গেরিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক জোড়া লাগানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে। মাগারের পূর্বসূরি ভিক্টর ওরবান ক্রেমলিনঘনিষ্ঠ হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে দুই দেশের সম্পর্কে যথেষ্ট টানাপোড়েন ছিল।

ব্রাসেলসে দুজনের একান্ত ওই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, অর্থনীতি ও লজিস্টিকস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

পশ্চিম ইউক্রেনে বসবাসকারী জাতিগত হাঙ্গেরীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে বুদাপেস্টের দীর্ঘদিন ধরে কিছু দাবি ছিল। কিয়েভ সেই উদ্বেগ দূর করার উদ্দেশ্যে নতুন আইন পাস করার মাত্র কয়েক দিন পরই এই শীর্ষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।

আইন পাস হওয়ার পর হাঙ্গেরিও ইউক্রেনের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ অর্জনের আলোচনার নতুন অধ্যায়গুলো খুলে দিতে সম্মত হয়। মাগার গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে এই আইন পাসকে পারস্পরিক বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বৈঠকে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের বিষয়ে কিয়েভের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন। জেলেনস্কি এই সংহতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতার জন্য হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট আরও জানান, বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পাওয়ার পথে তাদের অগ্রগতির বিষয়টিও স্থান পেয়েছে। আলোচনার নতুন দুটি ক্লাস্টার চালুর পথ সুগম করায় তিনি হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাকি দুটি ক্লাস্টারও চালুর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন।

দুই নেতা তাদের আলোচনায় বর্তমান কূটনৈতিক পরিস্থিতি, যুদ্ধ অবসানের উপায়, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, বাণিজ্য ও কৃষি খাতের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় করেন। ইউক্রেন সবসময় সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক শক্তি বৃদ্ধিতে বিশ্বাস করে বলে জানান জেলেনস্কি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি জানান, দুই নেতা বিভিন্ন পর্যায়ে যৌথ কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে এবং পারস্পরিক সফর বিনিময় করতে সম্মত হয়েছেন। খুব দ্রুতই সংশ্লিষ্ট টিমগুলোর মাধ্যমে এসব সফরের দিনতারিখ চূড়ান্ত করা হবে।

banner
Link copied!