শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

মধ্যবর্তী নির্বাচন জনমত জরিপ

ওয়াশিংটনে বড় পরিবর্তন চান ভোটাররা: ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ তুঙ্গে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

ওয়াশিংটনে বড় পরিবর্তন চান ভোটাররা: ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ তুঙ্গে

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের ভেতরে ও বাইরে নিজের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে পারছেন না বলে মনে করেন ভোটারদের একটি বিশাল অংশ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও নরক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ভোটাররা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখতে চান।

নির্বাচনের তারিখের চার সপ্তাহেরও কম সময় আগে এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়। এতে দেখা যায়, নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ রিপাবলিকানদের তুলনায় অনেক বেশি। পাশাপাশি, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাক—এমনটাই চাচ্ছেন বেশি সংখ্যক ভোটার এবং রিপাবলিকানদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বেশ নেতিবাচক।

সামগ্রিকভাবে প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৮ জন ভোটার জানিয়েছেন যে অর্থনীতি বা জীবনযাত্রার ব্যয় তাদের কাছে আসন্ন নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার স্বাস্থ্যসেবা এবং ইরান যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে অভিবাসন বা অপরাধের মতো যেসব ঐতিহ্যগত ইস্যুতে ট্রাম্পের শক্ত অবস্থান রয়েছে, সেগুলো ভোটারদের কাছে কম প্রাধান্য পাচ্ছে।

জর্জিয়ার ডিক্যাটারের বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট সমর্থক ডায়ানা ওয়াকার বলেন, পৃথিবী পিছিয়ে যাচ্ছে এবং আমাদের পক্ষে কোনো কিছু কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দল নির্বিশেষে সবার অবস্থা খারাপ এবং আমরা সবাই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছি।

নিবন্ধিত ভোটারদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মনে করেন আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ডেমোক্র্যাট ভোটারদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই মনে করেন নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে রিপাবলিকানদের মধ্যে এই হার প্রতি ১০ জনে প্রায় ৬ জন।

গত দুই বছর ধরে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে রিপাবলিকানরা। তবে নিবন্ধিত ভোটারদের প্রায় অর্ধেক এখন চাচ্ছেন হাউস বা সেনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাট পার্টির হাতে যাক। অন্যদিকে, প্রতি ১০ জনে মাত্র ৪ জন বা এর চেয়ে কিছুটা কম ভোটার প্রতিটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকান পার্টির হাতে দেখতে চান এবং ১৫ শতাংশ ভোটার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে ভোটাররা পরিবর্তন চাইছেন। ভোটারদের প্রায় অর্ধেক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন চাচ্ছেন এবং প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৩ জন দেশের শাসনব্যবস্থায় আমূল ও সম্পূর্ণ রদবদল চান।

সামগ্রিকভাবে নিবন্ধিত ভোটারদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের বিষয়ে অনুকূল ধারণা পোষণ করেন এবং প্রায় একই সংখ্যক মানুষ তার কার্যক্ষমতায় সন্তুষ্ট। সফল নির্বাচনী বিজয়ের প্রায় দুই বছর পর, ট্রাম্প যেভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিচ্ছেন তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৮ জন ভোটার। অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রেও প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোটার তার সমালোচনা করেছেন।

অন্যান্য বিষয়েও ট্রাম্পের রিপাবলিকান ঘাঁটিতে ফাটল ধরার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ইরান যুদ্ধ অষ্টম মাসে গড়িয়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৬৯ শতাংশ রিপাবলিকান ভোটার, যদিও শুরুতে এই সংঘাত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

মিশিগানের ম্যানিস্টির ৭২ বছর বয়সী রিপাবলিকান ভোটার ডোনাজিন ওয়েবার বলেন, সবকিছুর দাম বাড়ছে। তিনি ইরান যুদ্ধ এবং শুল্কের নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরে জানান যে এই শুল্কের বিষয়েও তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন এবং এটি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

নরকের প্রোবাবিলিটি-ভিত্তিক অ্যামেরিকলাপ প্যানেল থেকে সংগৃহীত নমুনার ভিত্তিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে ১ হাজার ১১৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর এই জরিপ চালানো হয়, যার মধ্যে ৯২৫ জন নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন।

banner
Link copied!