মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, লেবাননে সম্প্রতি শত শত কেজি বিস্ফোরক আটকের বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও। গত সপ্তাহে লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনী একটি গাড়ি থেকে এসব বিস্ফোরক জব্দ করে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আউনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, এই চালানের পেছনে যারা অর্থায়ন করেছে, আদেশ দিয়েছে এবং পরিচালনা করেছে, তাদের যেন বিচারের আওতায় আনা হয়। মার্কিন ওই কর্মকর্তা জানান, রুবিও লেবাননীয় নেতাকে পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন যে জব্দ করা এসব বিস্ফোরক হিজবুল্লাহর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সংঘাত এড়াতে লেবানন ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সামরিক যোগাযোগের ওপরও জোর দিয়েছেন রুবিও।
এর আগে হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ স্বীকার করেছিলেন যে জব্দ করা বিস্ফোরকগুলো তাদের দলেরই। ফাদলাল্লাহ জানান, চলতি বছরের যুদ্ধে দখল করা লেবাননীয় ভূখণ্ডে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই এসব উপকরণ রেখেছিল হিজবুল্লাহ।
এক হিজবুল্লাহ কর্মকর্তা এবং লেবাননের এক নিরাপত্তা সূত্র সংবাদকর্মীদের জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ড্রোন তৈরিতে এই বিস্ফোরকগুলো ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল।
প্রেসিডেন্সির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফোনালাপে জোসেফ আউন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন যে লেবাননীয় সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন রোধ, অস্ত্র জব্দ এবং চোরাচালান দমনের সিদ্ধান্তগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে চলেছে। একই সঙ্গে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের শহর ও গ্রামগুলোতে ইসরায়েলি হামলা বন্ধে চাপ সৃষ্টি করতে রুবিওর প্রতি অনুরোধ জানান আউন।
গত ২ মার্চ লেবানন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী বৃহত্তর সংঘাতে তেহরানকে সমর্থন জানাতে ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ার পর বৈরুত এই নিষেধাজ্ঞা দেয়।
এর জবাবে পরবর্তীতে তেহরানও ইসরায়েল এবং মার্কিন ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালায়। এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলায় এবং লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ইসরায়েল-লেবানন আলোচনা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বৈরুত। এর বিপরীতে লেবানন থেকে ধীরে ধীরে সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল ইসরায়েলের। তবে লেবাননীয় ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনী যতদিন থাকবে, ততদিন অস্ত্র জমা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। অন্যদিকে ইসরায়েলও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
