শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

তিরানা বিক্ষোভ

পদত্যাগের দাবি নাকচ করলেন আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম

পদত্যাগের দাবি নাকচ করলেন আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামা

আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামা তাঁর পদত্যাগের দাবি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। দেশটির রাজধানী তিরানার কেন্দ্রস্থলে টানা তৃতীয় দিনের মতো হাজার হাজার বিক্ষোভকারী দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হন।

সরকারি ভবনে হামলাকারী জনতার ওপর দাঙ্গা পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও শিক্ষা খাত অবহেলার গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট প্রকল্পের কাছে আলবেনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলের অংশবিশেষ বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনায় তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পোড়ানো আবর্জনার ঝুড়ি, ভাঙা বাস স্টপ ও ভেঙে ফেলা ট্রাফিক বাতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পর্যটকদের উপস্থিতিতে স্ক্যান্ডারবেগের চত্বরে ছত্রভঙ্গ হওয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করেন পুলিশ সদস্যরা।

রয়টার্সকে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী এদি রামা বলেন, আমার দায়িত্ব হলো সবার কথা শোনা, যৌক্তিক উদ্বেগগুলো দূর করা এবং আলবেনিয়াকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

তিনি আরও বলেন, এর অন্যথা হলে আলবেনিয়ার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে, যারা আমাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ অর্জনের আলোচনা সম্পন্ন করার শক্তিশালী দায়িত্ব দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় বর্জনের কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করায় বৃহস্পতিবার এই আন্দোলন আলবেনিয়ার বেশ কয়েকটি ছোট শহরেও ছড়িয়ে পড়ে।

দুপুর ১টার মধ্যে রামার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে একটি চরমপত্র বা আল্টিমেটাম প্রচার করেন বিক্ষোভকারীরা। ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তিরানায় অস্থায়ী ব্যারিকেড তৈরি করে ও ময়লার ঝুড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু করেন তারা।

দুর্নীতির সব অভিযোগ অস্বীকার করে এদি রামা জানান, শিক্ষার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে আলোচনা করতে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

তিনি বলেন, হয়তো দেশ ও বিদেশের কিছু শক্তি চায় না আলবেনিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ অর্জনে অগ্রগামী হোক, তবে সহিংসতার কারণে আলবেনিয়ার ইউরোপীয় ভবিষ্যৎ আমি লাইনচ্যুত হতে দেব না।

বৃহস্পতিবারের শুরুর দিকে ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন রামা। সেখানে তাকে তিরানার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি কক্ষের অবশিষ্টাংশ পরিদর্শন করতে দেখা যায়।

তিনি বলেন, গতকাল পর্যন্ত এটি ছিল ইউরোপের একতার প্রতীক কলেজ অব ইউরোপের কার্যালয়, আইনের চোখে সবাই সমান এবং এই বিশৃঙ্খলার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের প্রত্যেককে অবশ্যই খেসারত দিতে হবে।

কিয়ারা নামের এক শিক্ষার্থী রয়টার্সকে জানান, জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয়, চাকরির অভাব এবং ব্যাপক দুর্নীতির কারণেই তারা রাস্তায় নেমেছেন।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজেই দুর্নীতির প্রতীক, এখানে কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চাকরি পেতে হলে প্রভাবশালী কারও না কারও মাধ্যম লাগবেই।

পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট করার সন্দেহে গত বুধবারের বিক্ষোভ থেকে মোট ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত বুধবার তিরানার হাসপাতালগুলো ৮৯ জনকে চিকিৎসা দিয়েছে, যার মধ্যে ৬১ জনই ছিলেন পুলিশ সদস্য।

আহতদের মধ্যে চার পুলিশ কর্মকর্তা ও দুই বিক্ষোভকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং একজন বিক্ষোভকারী ও দুজন পুলিশ কর্মকর্তার অস্ত্রোপচারের কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এদি রামা বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা, জনসম্পদ ধ্বংস এবং জননিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলা শিক্ষার্থীদের কোনো যৌক্তিক দাবির সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না।

banner
Link copied!