বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

উত্তেজনাপূর্ণ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচ

রোমার মাঠে নাটকীয় জয়ে শেষ মুহূর্তের চমক রিয়াল মাদ্রিদের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

রোমার মাঠে নাটকীয় জয়ে শেষ মুহূর্তের চমক রিয়াল মাদ্রিদের

বুধবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোমার মাঠ স্তাদিও অলিম্পিকোতে শেষ মুহূর্তের তিন গোল শোধ করে ৪-৩ গোলের অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

ম্যাচটিতে দারুণ এক পুনর্মিলনী অভিজ্ঞতা হয়েছে কোচ হোসে মরিনহোর। অতীতে আড়াই বছরের দায়িত্বে এই ইতালীয় ক্লাবটিকে উয়েফা কনফারেন্স লিগ শিরোপা ও ইউরোপা লিগের ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন পর রোমার ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফেরার দিনে স্বাগতিক দর্শকরাও প্রিয় কোচকে ব্যানার ও স্লোগানে বরণ করে নেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত আক্রমণ চালায় স্বাগতিকরা। মারিও এরমোরোর একটি জোরালো শট থিবো কোর্তোয়া কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। এরপর ম্যাচের ২০ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে দারুণ এক শটে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে রোমাকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন মার্টিন ডি রুন।

ব্যবধান দ্বিগুণ করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল রোমা। ডনিয়েল মালেনের একটি শক্তিশালী শট কোর্তোয়ার হাত ফসকে গেলেও গোললাইন থেকে তা পরিষ্কার করা হয়। তবে রক্ষণভাগের ভুলে ম্যাচের প্রথম গোল হজম করার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফেরে রিয়াল মাদ্রিদ।

মারিও এরমোরো বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করলে ফাঁকা মাঠে বল পেয়ে যান কিলিয়ান এমবাপে। ফরাসি এই ফরোয়ার্ডের ডিফ্লেক্টেড শট জালে জড়িয়ে যায়। এই গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের শততম ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি এবং টুর্নামেন্টে এটি তার বাহাত্তরতম গোল।

মাত্র ২৭ বছর বয়সে এই মাইলফলক স্পর্শ করায় প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে একশ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েন এমবাপে। পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেসকে পেছনে ফেলে টুর্নামেন্টের সর্বকালের শীর্ষ পাঁচ গোলদাতার তালিকায় নাম লেখান তিনি।

কোচ জিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনির অধীনে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা থেকে সরে দাঁড়ায়নি রোমা। বিরতির পর মাঠে নেমেই তারা চড়াও হয়। বদলি খেলোয়াড় রদ্রিগো মোতার বাড়ানো বল দারুণ দক্ষতায় কোর্তোয়ার মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়িয়ে রোমাকে আবারও এগিয়ে দেন মালেন।

এর ঠিক ছয় মিনিট পর আরেকটি দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক থেকে জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মালেন। প্রথমে অফসাইডের পতাকা উড়লেও ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।

পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় রিয়াল মাদ্রিদ। এমবাপের একটি শট গোলরক্ষক পিয়েরলুইগি গোলিনির পরীক্ষার মুখে ফেলে এবং অফসাইডের কারণে তার আরও একটি গোল বাতিল হয়। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সেট পিস কাজে লাগিয়েই রোমার রক্ষণভাগ ভেঙে দেয় অতিথিরা।

ম্যাচের শেষ ছয় মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে আসা হেড রিবাউন্ডে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান কমায় কার্লোস এস্পি। এর ঠিক দুই মিনিট পর আরেকটি কর্নার কিক থেকে জোরালো হেডে স্কোরলাইন ৪-৩ করেন তরুণ এন্ড্রিক।

ম্যাচের নব্বই মিনিটে সাবেক রোমা ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার গোল করে অবিশ্বাস্য এই জয়ের পূর্ণতা দেন। কর্নার থেকে আসা বল প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের এড়িয়ে নিপুণ শটে জালে পাঠান তিনি। এই জয়ে লিগ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট অর্জন করল রিয়াল মাদ্রিদ, আর রোমা এক পয়েন্টেই আটকে রইল।

banner
Link copied!