দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে বৃহস্পতিবার বড় ধরনের ধস নেমেছে। প্রধান সূচকগুলো প্রায় আট শতাংশ কমে যাওয়ায় পুরো বাজারজুড়ে লেনদেন স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
প্রধান সূচক কোস্পি চার শ আশি দশমিক সাত ছয় পয়েন্ট বা আট দশমিক ছয় আট শতাংশ কমে পাঁচ হাজার পাঁচ শ আউটাআশি দশমিক শূন্য পাঁচ পয়েন্টে নেমে দিন শেষ করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় সময় দুপুর বারোটা বেজে আটত্রিশ মিনিটে বাজারটিতে সার্কিট ব্র্রেকার সক্রিয় করা হয়।
এর আগে প্রযুক্তিনির্ভর কোসদাক সূচকেও আলাদাভাবে সার্কিট ব্র্রেকার চালু করা হয়। সূচকটি ষাট পয়েন্ট বা আট দশমিক শূন্য এক শতাংশ কমে সাত শ সাতান্ন দশমিক আট আট পয়েন্টে নেমে আসে এবং উভয় বাজারের লেনদেন কুড়ি মিনিটের জন্য স্থগিত থাকে।
মূলত সেমিকন্ডাক্টর খাতের বড় কোম্পানিগুলোর দরপতনের কারণেই এই ধস ত্বরান্বিত হয়েছে। লেনদেনের সময় স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের শেয়ারের দাম প্রায় দশ শতাংশ কমে যায় এবং এসকে হাইনিক্সের দর কমে এগারো শতাংশের বেশি।
সিউল ইকোনমিক ডেইলি জানিয়েছে যে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রধান বোর্ডে নিট দুই লাখ ৯০ হাজার কোটি ওয়ান বা দুই শ পনেরো কোটি ডলার সমপরিমাণ শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। দেশীয় খুচরা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে ক্রয়ের চাপ থাকা সত্ত্বেও এই ব্যাপক শেয়ার বিক্রির ঘটনা ঘটে।
ওয়াল স্ট্রিটে আগের রাতে হওয়া দরপতনের পরই মূলত এশিয়াতেও এই বড় পতন দেখা যায়। যেখানে নাসডাক কম্পোজিট সূচক এক দশমিক আট আট শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক এক দশমিক এক এক শতাংশ কমেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বর মাসে মাসিক ভোক্তা মূল্য সূচক শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি দাঁড়িয়েছে তিন দশমিক সাত শতাংশে যা বাজারের তিন দশমিক ছয় শতাংশের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে এবং সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
ইয়োনহাপের প্রতিবেদন অনুযায়ী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিশাল বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত আর্থিক রিটার্ন দিতে পারবে কি না তা নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছিল যা প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
বৃহস্পতিবারের এই বিপর্যয়ের আগে সিউলের প্রধান সূচকটি টানা ছয়টি সেশনে পতনের মুখে পড়েছিল।
কোরিয়া এক্সচেঞ্জের নিয়ম অনুযায়ী পূর্ববর্তী বন্ধের তুলনায় প্রধান সূচক অন্তত আট শতাংশ কমে গেলে এবং সেই অবস্থা এক মিনিট ধরে থাকলে প্রথম ধাপের সার্কিট ব্র্রেকার প্রয়োগ করে কুড়ি মিনিটের জন্য লেনদেন স্থগিত রাখতে হয়।
