ইয়েমেনের তাইজ শহরে হুতি মিলিশিয়াদের অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। বুধবার কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন যে সেখানকার অবনতিশীল পরিস্থিতি এখন লাখ লাখ বাসিন্দাকে বিপদের মুখে ফেলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইইউ জানিয়েছে, আমরা তাইজের পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি এবং হুতিদের প্রতি শহরটির অবরোধ প্রত্যাহার করার পাশাপাশি খাদ্য, পানি, ওষুধ ও জ্বালানি প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
ইউরোপীয় জোটটি বেসামরিক নাগরিক এবং বেসামরিক অবকাঠামো সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় ত্রাণ সরবরাহের জন্য মানবিক অংশীদারদের নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে হবে বলেও জানিয়েছে তারা।
ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল জোবা বুধবার জাতিসংঘ এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে সরাসরি আবেদন জানিয়েছেন। অবরোধ ভাঙতে এবং বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির সভাপতির কাছে পাঠানো আনুষ্ঠানিক চিঠিতে আল জোবা উল্লেখ করেছেন যে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ হুমকির মুখে রয়েছে।
প্রভাবিত এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে শহরের স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়াও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিরা আল শামায়াতাইন, আল মোওয়াসিত এবং জাবাল হাবাশিসহ আশেপাশের জেলাগুলোতে পালিয়ে গেছেন। তাইজে যাতায়াতের সব রুট পুনরায় খুলে দিতে বাধ্য করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সরাসরি চাপ প্রয়োগ করতে হবে বলে জানান আল জোবা।
তিনি সুপেয় পানি, খাদ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখার দাবি জানান। পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কথিত লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর জোরালো মনিটরিং এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বেসামরিক নাগরিকদের মৌলিক প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত করা বা রাজনৈতিক চাপের জন্য মানবিক চাহিদাকে ব্যবহার করার অনুশীলনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার তাগিদ দেন আল জোবা।
তিনি বলেন, তাইজের বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং বেসামরিক নাগরিকদের জীবন, মর্যাদা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি এটি যে সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করেছে, তা কেবল উদ্বেগের প্রকাশে সীমাবদ্ধ না থেকে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তব ব্যবস্থার দাবি রাখে।
ইয়েমেনি সরকার জাতিসংঘ, মানবিক সংস্থা, মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগ লাঘব করা এবং অসহায় জনগোষ্ঠীর কাছে ত্রাণ পৌঁছানো নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
