ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ওপর রাবার ও প্লাস্টিক বুলেট নিক্ষেপ করেছে কারারক্ষীরা। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে এসব হামলায় বেশ কয়েকজন বন্দি গুরুতর আহত হয়েছেন।
ফিজিশিয়ান্স ফর হিউম্যান রাইটস ইসরায়েল এবং পাবলিক কমিটি এগেইনস্ট টর্চার ইন ইসরায়েল নামক দুটি সংস্থা যৌথভাবে এই প্রতিবেদন তৈরি করে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে শুরু করে পাঁচটি কারাগারে মোট একুশটি গুলি চালানোর ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এর বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটে ২০২৫ সালের শেষভাগে এবং ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে। ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী প্রায় কোনো ধরনের পূর্বপ্ররোচনা বা হাঙ্গামা ছাড়াই অত্যন্ত কাছ থেকে বন্দিদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাটি ঘটে গত জুন মাসে দক্ষিণাঞ্চলের কেতসিয়ত কারাগারে। সেখানে এক বন্দির অণ্ডকোষ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। সোরোকা হাসপাতালের চিকিৎসাগত নথিতে দেখা যায় যে আঘাতের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে অস্ত্রোপচার করে ওই অঙ্গটি সম্পূর্ণরূপে ফেলে দিতে হয়েছে।
ভুক্তভোগী বন্দি তার আইনজীবীকে জানান যে ঘটনার এক সপ্তাহ আগে তল্লাশির নামে তাকে মারধর করেন কারারক্ষীরা। সেসময় তার অণ্ডকোষে লাথি মারা হয়েছিল। ঘটনার দুদিন পর তাকে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
মারধরের ঠিক এক সপ্তাহ পর ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষের মাসাদা ইউনিটের সদস্যরা তার সেলে এসে রাবার বুলেট ছোড়েন। নিক্ষিপ্ত বুলেটটি তার আগের আঘাতপ্রাপ্ত অণ্ডকোষে এবং ডান হাঁটুর পেছনে লাগে।
ওই বন্দি জানান যে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণের পরও কারারক্ষীরা তাকে প্রায় পঞ্চাশ মিটার টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তরের আগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
গত জুলাই মাসে কেতসিয়ত কারাগারের আরেকটি ঘটনায় রাবার বুলেটের আঘাতে এক বন্দির বাঁ পায়ের হাড় ভেঙে যায়। তাকে অস্ত্রোপচারের মুখোমুখি হতে হয়। এছাড়া এক সাবেক বন্দি জানান যে গত এপ্রিল মাসে তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয় এবং দীর্ঘ পনেরো দিন তাকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। মুক্তির পরই কেবল তার অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে বন্দিদের সেল, প্রাঙ্গণ এবং আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষমাণ স্থানেও এই ধরনের গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। গত আগস্ট মাসে সংস্থাগুলো ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রতি এই ধরনের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানায়।
তবে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ এই নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তাদের দাবি অপারেশনাল প্রয়োজন এবং নিরাপত্তার খাতিরেই এই ধরনের কম প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
পাবলিক কমিটি এগেইনস্ট টর্চার ইন ইসরায়েলের আইনজীবী মেইরাভ বেন জেভ সাংবাদিকদের জানান যে প্রতিশোধের ভয়ে বন্দিরা নির্যাতনের ঘটনাগুলো মুখ খুলতে চান না। বিগত বছরগুলোতে যেসব অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তার কোনোটিই শেষ পর্যন্ত বিচারের মুখ দেখেনি।
বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে প্রায় নয় হাজার তিনশো পঞ্চাশ জন ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছে। এর মধ্যে তিনশো পঞ্চাশ জন শিশু এবং নব্বই জন নারীও রয়েছেন। ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থাগুলো এর আগেও বন্দিদের ওপর নির্যাতন, অনাহার এবং চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছে। এসব কারণে কারাগারে ইতোমধ্যে বহু বন্দির মৃত্যু হয়েছে।
