বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি

আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তাকারী দাতব্য সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা দাবি ফারাজের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম

আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তাকারী দাতব্য সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা দাবি ফারাজের

যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে আশ্রয়প্রার্থীদের সাহায্যকারী দাতব্য সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ফৌজদারি মামলা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফারাজ। মার্কিন ডানপন্থী পডকাস্টার বেনি জনসনের নেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

কোন কোন সংস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা উচিত, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি এই রিফর্ম নেতা। তবে তিনি এবং তাঁর দলের অন্য শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা এর আগে রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশনের সমালোচনা করেছেন। চ্যানেল পারাপারের সময় আশ্রয়প্রার্থীদের উদ্ধারের কাজের জন্য এই সংস্থাকে নানা হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে।

ছোট নৌকায় করে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ফারাজ এই চলাচলকে আক্ষরিক অর্থেই মানুষের একটি আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করেন, যারা প্রচণ্ড ক্ষতি করতে পারে। জনসন যখন জানতে চান যে তিনি এই পারাপারে সহায়তাকারীদের জন্য ফৌজদারি শাস্তির পক্ষে কি না, তখন ফারাজ জানান যে তিনি পুরোপুরি এর পক্ষে।

ফারাজ বলেন, করদাতাদের অর্থায়নে চলা সংস্থাসহ বেসরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা সব দিক থেকেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে মদদ জুগিয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তিনি বিভ্রান্ত, উগ্র বামপন্থী সমাজতান্ত্রিক মার্ক্সবাদী বলে অভিহিত করেন, যারা দেশ, সীমানা বা আত্মপরিচয়ে বিশ্বাস করে না।

রিফর্ম দলের নেতারা এর আগেও লাইফবোট ইনস্টিটিউশনকে লক্ষ্যবস্তু করেছেন। ফারাজ এই দাতব্য সংস্থাকে অভিবাসী ট্যাক্সি সার্ভিস বলে অভিহিত করেছিলেন। লোকজনকে তীরে নিয়ে আসার সময় বিক্ষোভকারীরা লাইফবোটের কর্মীদের গালাগাল করছে এমন ভিডিও শেয়ার করার পর তাঁর দলের অন্য সদস্যরাও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

রিফর্মের একজন মুখপাত্র জানান, ফারাজের মন্তব্য থেকেই তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। দাতব্য সংস্থা ও প্রচারণামূলক দলগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার এই দাবির সঙ্গে হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের প্রচেষ্টার মিল রয়েছে।

আলোচনার সময় ফারাজ যুক্তরাজ্যে মুসলিম আশ্রয়প্রার্থীদের আগমন প্রসঙ্গটি বারবার তোলেন। ডানপন্থী উসকানিকারীরা যেখানে ইসলামবিরোধী মনোভাব চাঙ্গা করেছে, সেই মিশিগানকে তিনি উদাহরণ হিসেবে টানেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইউরোপীয় দেশগুলো অনেক বড় অভিবাসন সমস্যার মুখে রয়েছে।

ফারাজ সতর্ক করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর যদি এমন কোনো দুর্বল রাজনীতিবিদ আসেন যিনি অভিবাসন সমস্যা মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হন এবং ইংরেজিভাষী খ্রিস্টান মূল্যবোধের পক্ষে দাঁড়াতে না পারেন, তবে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। তিনি এ কথাও বলেন যে, ঘৃণাভাষণের অভিযোগে এক দশকের মধ্যে জনসনের মতো পডকাস্টগুলোও অবৈধ হয়ে যেতে পারে।

মার্কিন গণমাধ্যমে হাজির হয়ে উগ্র ডানপন্থী ও ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে জড়িত তত্ত্ব ও ষড়যন্ত্র নিয়ে আলোচনা করার কারণে এর আগে ইহুদি দলগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ফারাজ।

banner
Link copied!