ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কুরিটিবার একটি কিন্ডারগার্টেনে ১৩ শিশুকে জিম্মি করার ঘটনার পর পুলিশের বিশেষ অভিযানে এক হামলাকারী নিহত হয়েছে। শুক্রবার সাও ব্রাস এলাকার একটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই রুদ্ধশ্বাস ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। জিম্মিদশা থেকে সব শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্তত একটি শিশু আহত হয়েছে। তবে শিশুটি ঠিক কীভাবে আহত হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া ১৩ শিশুই এখন ঝুঁকিমুক্ত।
পারানা রাজ্যের সামরিক পুলিশের বিশেষ বাহিনীর মুখপাত্র লেতিসিয়া মার্তিন্স সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার ওই ব্যক্তি বিদ্যালয়ের ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করে একটি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে। এরপর সে ১৩ শিশুকে জিম্মি করে ফেলে। শ্রেণিকক্ষের ভেতরে সে দ্রুত দাহ্য তরল পদার্থ ছড়িয়ে দেয় এবং নিজের হাতে লাইটার উঁচিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি তৈরি করে। তার সঙ্গে একটি ধারালো ছুরি ছিল এবং শুরুতে তার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার ধারণা করা হলেও পরে নিশ্চিত হওয়া যায় সেটি ছিল মূলত একটি ভুয়া বা খেলনা অস্ত্র।
ঘটনাস্থলে দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে পুলিশের মধ্যস্থতাকারী দলের সঙ্গে হামলাকারীর আলোচনা চলে। পারানা বিশেষ বাহিনীর কমান্ডার আলেক্সান্দ্রে লোপেস দিয়াস জানান, আলোচনার পুরোটা সময় হামলাকারী সব শিশুকে নিজের চারপাশে ঘিরে রেখেছিল এবং একটি শিশুকে নিজের কোলে বসিয়ে রেখেছিল।
একপর্যায়ে শিশুরা ভয়ে কান্নাকাটি ও নড়াচড়া শুরু করলে হামলাকারী তাদের ওপর চড়াও হয় এবং শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হলে পুলিশি হস্তক্ষেপের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর বিশেষ কৌশলে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে হামলাকারীকে লক্ষ্য করে চরম ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং শিশুরা মুক্ত হয়।
নিহত হামলাকারী মানসিক সমস্যা তথা সিজোফ্রেনিয়ায় ভুগছিল বলে পুলিশ শনাক্ত করেছে, তবে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কুরিটিবার নগর মেয়র এদুয়ার্দো পিমেন্তেল সামাজিক মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে প্রতিটি শিশুই অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশু এবং বিদ্যালয়ের কর্মীদের জন্য পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।
