অটিজম ও এডিএইচডি অতিরিক্ত শনাক্তকরণের ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে ইংল্যান্ডের এক সরকারি স্বাধীন পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ দল জানিয়েছে, গত ২৫ বছরে এই রোগ শনাক্তকরণের হার যেভাবে বেড়েছে তাতে কম বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে তা প্রত্যাশিত মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। একইসঙ্গে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার হয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মান ও ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তাদের বিজ্ঞাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।
শনাক্তকরণের দীর্ঘ অপেক্ষাও রোগীদের মারাত্মক ক্ষতি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায়ই এসব জটিলতাকে মানুষের সক্ষমতা হিসেবে দেখার বদলে একধরনের স্থায়ী পরিচিতি বা তকমা বানিয়ে ফেলা হচ্ছে, যা শিক্ষা, কর্মজীবন ও পারিবারিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ১৭ বছর বয়সের আগে যেসব শিশুর অটিজম ও এডিএইচডি শনাক্ত হয়, ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সে তাদের পড়াশোনা, কাজ কিংবা কোনো প্রশিক্ষণে যুক্ত না থাকার আশঙ্কা সাধারণের চেয়ে চার গুণ বেশি। সহায়তার ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে এরা স্বাভাবিক ও পরিপূর্ণ জীবনযাপনে ফিরতে পারত বলে পর্যবেক্ষণ দল উল্লেখ করেছে।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের পর্যালোচনায় রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষার যন্ত্রণার কথাও বিস্তারিত এসেছে। সাত বছর বয়সী এক অটিস্টিক শিশুর বাবা জানান, সন্তানের বয়স এক থেকে দেড় বছর হওয়ার পর থেকেই তার বিকাশের অসঙ্গতি চোখে পড়লেও আনুষ্ঠানিক শনাক্তকরণের জন্য পরিবারটিকে প্রায় তিন বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। জটিল পরিস্থিতির শিকার শিশুদের জন্যও দ্রুত কোনো পথ খোলা ছিল না। সাধারণ স্কুলে ভর্তি করানোর ঝুঁকি এড়াতে পরিবারটিকে এক চরম মানসিক অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে যেতে হয়।
এমন সংকট দূর করতে অপেক্ষমাণ তালিকা যাচাই করে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিদ্যালয় কিংবা কর্মক্ষেত্রে পরিবেশের কিছুটা সমন্বয় এবং ঘুমের সমস্যা বা দুশ্চিন্তা দূর করার মতো জীবনযাপনভিত্তিক সহায়তার মাধ্যমে অনেকের চাপ কমানো সম্ভব বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। ২০১৪ সালে কার্যকর হওয়া এক নিয়মে বিশেষ সহায়তা পাওয়ার শর্ত হিসেবে আনুষ্ঠানিক রোগনির্ণয় বাধ্যতামূলক করার পর থেকেই চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে ভিড় অস্বাভাবিক বেড়েছে। পর্যালোচনা কমিটির প্রধান অধ্যাপক পিটার ফোনাগি জানান, পুরো ব্যবস্থা এখন প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে। তার মতে, চিকিৎসাসেবা অবশ্যই জরুরি এবং তা সুরক্ষিত রাখতে হবে, তবে সেবা পাওয়ার একমাত্র উপায় হিসেবে শুধু আনুষ্ঠানিক রোগনির্ণয়কে আটকে রাখা ঠিক নয়।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ছয় থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের চার শতাংশের বেশি এখন অটিজম শনাক্তের আওতায় এসেছে, যেখানে স্বাভাবিক ক্ষেত্রে এই হার এক থেকে দুই শতাংশ হওয়ার কথা।
তবে এক দশক আগের কিছু পরিসংখ্যানের কারণে বর্তমান পর্যায়ে ব্যাপক হারে ভুল রোগনির্ণয় হচ্ছে কি না তা পুরোপুরি নিশ্চিত করে বলা যায়নি। ন্যাশনাল অটিস্টিক সোসাইটির প্রতিনিধি মেল মেরিট বলেন, এই পরিস্থিতি ধারাবাহিকভাবে অটিস্টিক মানুষদের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা তুলে ধরছে। তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা ইয়ংমাইন্ডসের অ্যাবিগেইল আম্পোফো জানান, বছরের পর বছর ধরে তরুণরা মানসিক কষ্টের জন্য নিজেদের দায়ী মনে করছে, কিন্তু মূল সংকটটি পুরো ব্যবস্থার ব্যর্থতায়। ব্রিটিশ স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতিবেদনটিকে স্বাগত জানিয়ে বছর শেষের আগেই নতুন মানসিক স্বাস্থ্য নীতিমালায় সংস্কার আনার আশ্বাস দিয়েছে।
