নির্বাচনে জয়ী দলকে সরকার গঠনের জন্য বাড়তি আসন দেওয়ার বিধান রেখে একটি বিতর্কিত নির্বাচনি আইন পাস করেছে ইতালির সংসদ। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারের উত্থাপিত এই আইনের মাধ্যমে দেশটির দীর্ঘদিনের মিশ্র নির্বাচনি ব্যবস্থা বাতিল করে সম্পূর্ণ সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। আল জাজিরা ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন আইনের আওতায় কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট সংসদের উভয় কক্ষে কমপক্ষে ৪২ শতাংশ ভোট পেলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে তাদের বিশেষ বোনাস আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে।
আইনটি পাসে ব্যর্থ হলে পদত্যাগের আগাম ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মেলোনি।
সিনেটে আগেই অনুমোদিত হওয়া বিলটি বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রোমের নিম্নকক্ষ চেম্বার অব ডেপুটিজে গোপন ব্যালটে ভোটাভুটির মুখোমুখি হয়। বিরোধীদের তীব্র আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত ২২৭-১৬৪ ভোটে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। নতুন বিধিমালার অধীনে ৪০০ সদস্যের চেম্বার অব ডেপুটিজে বিজয়ী পক্ষ সর্বোচ্চ ৭০টি এবং ২০০ সদস্যের সিনেটে সর্বোচ্চ ৩৫টি বোনাস আসন পেতে পারে। তবে সংসদের নিম্নকক্ষে বিজয়ীদের মোট আসন ২২০ এবং সিনেটে ১১৩টির বেশি যেন না হয়, সেজন্য নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো দল বা জোট ৪২ শতাংশ ভোটের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে বোনাস আসন বাতিল হয়ে স্বাভাবিক সমানুপাতিক হারে সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব নির্ধারিত হবে।
২০১৭ সাল থেকে ইতালিতে "রোজাতেলুম" নামের একটি মিশ্র নির্বাচনি ব্যবস্থা চালু ছিল।
বিরোধীরা এই নতুন উদ্যোগকে গণতন্ত্রবিরোধী বলে অভিহিত করে অভিযোগ তুলেছেন, মেলোনি নিজের ক্ষমতার মেয়াদ বাড়াতে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। সংস্কারের প্রতিবাদে অনশন শুরু করা উদারপন্থী নেতা রিকার্দো মাজি মন্তব্য করেন, এর মাধ্যমে একটি সংখ্যালঘু রাজনৈতিক জোটকে সংসদে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। ইতালিয়া ভিভা দলের সিনেটর মাত্তেও রেনজি অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনি নিয়ম পরিবর্তন করছে। আইনে নির্বাচনের আগেই জোটের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণার বাধ্যবাধকতা যুক্ত হওয়ায় মধ্য-বাম বিরোধী দলগুলো নেতৃত্ব সংকটে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
লুইস গুইদো কার্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভিনচেনজো এমানুয়েলের মতে, এই আইন কেবল মেলোনির জোটকেই সুবিধা দেবে এমন নয়, বরং বিরোধী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হলে তারাও এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে মেলোনির ব্রাদার্স অব ইতালি ২৭ শতাংশ সমর্থনে এগিয়ে থাকলেও ক্ষমতাসীন জোটের মোট সমর্থন দাঁড়িয়েছে ৩৯ শতাংশে। বিপরীতে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি ও ফাইভ স্টার মুভমেন্ট জোটবদ্ধ হলে ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত সমর্থন টেনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারে বলে জরিপ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচনের আগে নতুন ডানপন্থী দলগুলোর উত্থান এবং বিরোধী দলগুলোর ঐক্য প্রচেষ্টার ওপরই এই আইনের চূড়ান্ত রাজনৈতিক প্রভাব নির্ভর করবে।
